ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৪ মে ২০২০
  1. ইসলাম
  2. ছোট গল্প
  3. বই
  4. বিজ্ঞান-ও-প্রযুক্তি
  5. বিনোদন
  6. বিশ্বকোষ
  7. ব্যবসা
  8. ভিডিও
  9. ভ্রমণ
  10. মার্কেটিং
  11. মোটিভেশনাল স্পিচ
  12. স্বাস্থ্য বিষয়ক
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পাঠ পর্যালোচনা | আমরা আবরাহার যুগে নই

প্রতিবেদক
dipu
মে ১৪, ২০২০ ৫:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রিফাত হাসান

আমরা আবরাহার যুগে নই। একটি বই একটি মহামূল্যবান মেসেজ

প্রিয় পাঠক! আমাকে ছোট ভেবে ভ্রু কুচকাবেন না। অবহেলা করবেন না। ছোট এক কষ্টিপাথরের মূল্য এতটাই বেশি যে, দামী দামী স্বর্ণ অলংকার নিজেকে খাঁটি প্রমাণ করতে ছোট্ট পাথরটির দ্বারস্থ হতে হয়। ‘ছোট’র ভেতরে থাকে অসাধারণ কিছু। আমি তেমনি অসাধারণ ছোট একজন। আমি দেখতে ছোট, তবে মানে ছোট নই। আমার সৃষ্টি হয়েছে এক মহামূল্যবান মেসেজ পৌছে দেবার জন্য। দৈহিক এই কাগুজে গঠনে আমাকে অস্তিত্বে এনেছেন খ্যাতিমান লেখক ড. রাগিব সারজানি।তার সম্পর্কে আপনারা সকলেই জানেন, তিনি ইতিহাস রচনায় সবসময় অতীতের সাথে বর্তমানের একটি যোগসূত্র স্থাপন করেন। অতীত থেকে পাওয়া শিক্ষাগুলো বর্তমানের সাথে মিলিয়ে দেন এবং কর্মপদ্ধতি খোঁজে বের করে থাকেন।

তবে আমি তখনো নির্দিষ্ট এক আরবিভাষীদের মাঝেই ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম। মাকতাবাতুল হাসানকে ধন্যবাদ যে, তারা আমার মর্ম বুঝেছেন।আমিও খুব করে চাচ্ছিলাম সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে এসে মুসলিম উম্মাহকে আমার মূল্যবান মেসেজটি পৌছে দিতে। অবশেষে তারা আমার সেই বুকফাটা কান্না শুনেছেন। আমার উম্মাহর দরদমাখা কথাগুলো তাদের কানে পৌছেছে। আর ভাই Mahdi Hasan আমাকে বাঙালীদের উপযোগী করে সাজিয়ে দিয়েছেন।

আমি এখন আপনাদের হাতের কাছেই। তবে আমি তো এক জড়পদার্থ মাত্র। আমি বলতে পারি তবে হাটতে পারি না। আপনি যদি হেটে এসে হাতে তুলে নিতে পারেন আমাকে তবেই আমি আপনাকে কিছু শুনাতে পারব। আমি তো বলেই যাচ্ছি সেই জন্মকাল থেকেই। তবে শুনানোর মতো কানের বড়ই অভাব।

কী? আত্মপ্রশংসা করে ফেলছি খুব বেশি? মাঝে মাঝে করতে হয়। নিজের জাত চিনাতে করতে হয়। তাই আমিও করছি। ‘খালি কলস বাজে বেশি ‘ এমনটাই ভাবছেন তো? আচ্ছা চলুন আমি কেনো নিজের ঢোল নিজেই পিটাচ্ছি এর কিছুটা নমুনা মেলে ধরি আপনাদের সামনে—-

একটা কথা বলুন তো, আপনার চারপাশো কি কখনো অন্যায় হতে দেখেন? পরিবারে, সমাজে, দেশে, ধরুন না গোটা পৃথিবীটাতেই? তখন তো চোখে দেখেও পাশ কাটিয়ে চলে যান আর বলেন, আল্লাহ! তুমিই দেখো! অথচ অন্যায়ের প্রতিবাদের সামর্থ ছিল আপনারও। তবুও আপনি করলেন না। ভাবলেন, আমি কেনো শুধু শুধু এসবে জড়াতে যাব? অন্যরা আছে তো। একবার কি ভেবে দেখেছেন, আপনার মতো সবাই-ই যদি ‘অন্য’কে দায়িত্ব দিয়ে আসে তবে সেই ‘অন্য’টা কে হবে?

নিজ চোখে, সোস্যাল মিডিয়ায় যখন আপনি আপনার ভাইদের উপর অমানবিক অত্যাচার হতে দেখেন তখন মুখ ফুটে এতটুকুই বলেন যে, আল্লাহ!তুমিই কিছু করো! একটা হাদীস ভালোই মুখস্থ করে রেখেছেন-‘অন্যায় দেখলে হাতে প্রতিবাদ করো, না হলে মুখে, তাও না পারলে মনে মনেই করো’। সুযোগ পেয়ে তাই আপনারা সকল অন্যায়কেই ‘অসম্ভবের’ কাতারে ফেলে দিয়ে নিজেকে দায়মুক্ত করে বসে আছেন। সামর্থ থাকলেও এখন আর নেই। সুযোগসন্ধানী তো সবাই। আগেকার নবীদের কিচ্ছা কাহিনীগুলোও তো মনে রাখতে ভুল করেননি। নূহ, লূত,মূসা আ. সহ অন্যান্য নবীদের যুগে উম্মতের কিছু করতে হয়নি। আল্লাহ ছিলেন তো তখন। তিনিই দ্বীনকে রক্ষা করেছেন সর্বকালে। দ্বীন তো তারই। সকল ক্ষমতাও তার। পাতাও তো নড়ে না তার ইচ্ছে ছাড়া। তাই তার দ্বীন তিনিই তো রক্ষা করে যাবেন কিয়ামত অবধি। আমাদের টেনশনের কিছু নেই।

কী? আপনাদের সম্পর্কে আমার ভাবনাগুলো কি ভুল? নিশ্চয়ই না। আপনাদের এই ভুল ভাঙাতেই তো আমার জন্ম। আবরাহার কথা শুনেছেন নিশ্চয়ই? রাসূলের জন্মের কিছুদিন আগের কথা। কা’বায় এত মানুষের সমাগম দেখে তার হিংসা হলো। নিজ শহরে খুবই উন্নতমানের একটি উপাসনালয় বানালো। কিন্তু কেউ তো আসে না এখানে। তাই সে বেরুলো কা’বা ধ্বংস করতে। মক্কায় ঢুকেই লুটপাট শুরু করে দিলো। আব্দুল মুত্তালিব গেলেন নিজের উটগুলো ফিরিয়ে নিতে। এদিকে কা’বা ধ্বংস হবার উপক্রম আর তিনি এসেছেন নিজের উট নিতে! আবরাহা হেসে উঠল। আব্দুল মুত্তালিব বললেন, ‘উটের মালিক আমি তাই এগুলো আমি নিতে এসেছি। আর কা’বার মালিক তো আমি নই। তাই কা’বার মালিকই কা’বা রক্ষা করবেন’।ঘটেছিল এমনটাই। ঝাকে ঝাকে পাখি উড়ে এলো হঠাৎ করে। চঞ্চু থেকে পাথরকণা নিক্ষেপ করে এফোড়-ওফোড় করে দিল আবরাহা বাহিনীর দেহ।

কী? এমনটাই আশা করছেন তো আপনি? কাশ্মীরউইঘুরফিলিস্তিন,সিরিয়া,মিয়ানমার আলেপ্পো সহ পুরো বিশ্বে আজ মুসলিম জাতি নির্যাতিত৷ তাদের নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজ দেখেন আর ভাবেন- আল্লাহই বাচাবেন। আমাদের করার কিছু নেই। তাহলে শুনুন! এই মিথ্যা ভাবনা মন থেকে মুছে ফেলুন! আবরাহার ঘটনায়ই এই রীতির কফিনে শেষ পেরেকটা মেরে দেয়া হয়েছে। দ্বীনে মুহাম্মাদীতে এই রীতি চলেনি কখনো, চলবেও না ভবিষ্যতে। নবীজি স. আপনার চেয়ে আল্লাহর কাছে কম প্রিয় ছিলেন না। কিন্তু তিনি! বদর, অহুদ, খন্দকে কি যুদ্ধ করেননি? নিজের শরীরের রক্ত ঝরাননি? নাকি পূর্বেকার নবীদের ঘটনা মাথায় রেখে নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়েছেন? তায়েফের ময়দানে গিয়ে রক্তাক্ত হননি? দ্বীনি স্বার্থে দেশ ত্যাগ করেননি?

শুনুন!উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য আল্লাহর নির্ধারিত রীতি কন্ঠস্থ করে রাখুন-
‘মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করলে তিনিও তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের কদম অবিচলিত রাখবেন’। (সূরা মুহাম্মাদঃ৭)। পূর্বেকার উম্মতদের নীতি না দেখে উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য নির্ধারিত মূলনীতিটা মনে রাখুন! সব ভুল বিশ্বাসের অপনোদন হয়ে যাবে। আমার ভেতরের পুরো আলোচনাই এই আয়াতটিকে কেন্দ্র করে। সহজ কথায় বলতে পারেন, আমার জন্ম এই আয়াতকে ঘিরেই।

তাই চিন্তা চেতনার পরিবর্তন প্রয়োজন। আমার ভেতর দশটি গুরুত্বপূর্ণ চিন্তা-চেতনার উল্লেখ রয়েছে, প্রতিটি মুসলমানের এসকল চিন্তা-চেতনার বাহক হওয়া অপরিহার্য। আমি বলেছি- পরিবর্তন শুধু ব্যক্তিকেন্দ্রিক হবে না, হবে না কেবল শাসককেন্দ্রিক। প্রয়োজন ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সামষ্টিক বিপ্লব। শরীআ প্রতিষ্ঠার সঠিক পন্থা এটাই। আমি বারবার বলেছি মুসলিম উম্মাহকে সতর্ক হতে, আত্মরক্ষা ও দ্বীন প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে। নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে খুব নরমসুরে ডেকেছি গাফেলদের।

বাতিলের আগ্রাসনী ভয়াবহ কর্মকান্ডে যারা দ্বীন-দুনিয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন তাদেরকে বলছি-মুসলিম জাতি কখনোই ধ্বংস হবে না। সবশেষে ক্ষমতা তাদের হাতেই থাকবে। বাতিলরাই ধ্বংস হবে।হাদীস আমাদের এমনটাই বলে। তবে আপনি মনোবল হারালে আপনিই হেরে যাবেন, দ্বীন হারবে না। মনে রাখবেন! ইসলাম জিতবেই, আপনাকে নিয়ে অথবা আপনাকে ছাড়া। তাই নিজেকে কেন বঞ্চিত করবেন এই মহাফযীলত থেকে?

মুসলিম হয়ে পরিচয় দিতে হলে ইসলামকে নিয়ে ভাবুন! এখন আর শুধু শুধু গায়েবী সাহায্য আসবে না। গায়েবী সাহায্য পেতে হলে আগে নিজে কিছু করে দেখান, তারপর না হয় দেখবেন আল্লাহর সাহায্য পান কিনা। আল্লাহর সাহায্য এসেছিল বদরের যুদ্ধে মুসলিমরা বের হবার পর। সাহায্য এসেছিল সালাউদ্দিন আইয়ুবীর আকসা বিজযের সময়। সাহায্য এসেছিল আইনে জালুতে মুসলিমদের আত্মোৎসর্গের পর। সাহায্য আসেনি তখন, যখন বাগদাদ ধ্বংস হয়েছে। সাহায্য আসেনি তখন, যখন মুসলিমরা যুগে যুগে বাতিলদের চাটুকারে পরিণত হয়েছে। সাহায্য আসছে না এখনো, কারণ আপনারা এখনো ঘুমিয়ে আছেন। সক্রিয় হোন আপনারা, যদি মুসলিম দাবি করে থাকেন।

আমাকে অধ্যয়ন করলে আরো জানবেন মুসলিম উম্মাহর জাগরণের প্রয়োজনীয় নিকনির্দেশনা। আমি আশাবাদী, আকুন্ঠ হতাশায় নিমজ্জিত মুসলিম জাতির জন্য আমি হতে পারব চেতনার দিশারি। আমি খোলে দিবো আপনাদের সামনে ভাবনার নতুন দুয়ার। ঘুণে ধরা, হতাশাগ্রস্থ মুসলিম জাতির জন্য আমাকে গভীরভাবে অধ্যয়ন করা উচিত। আবরাহাকে বহুবার পড়েছেন। তবে আমার উপস্থাপিত দৃষ্টিভঙ্গিতে কখনো দেখেছেন বলে মনে হয় না। আপনাদের চিন্তায় নতুনত্ব এনে দিতে পারব এটা আমার দৃঢ়বিশ্বাস।

শেষ করছি এক পাঠকের অভিব্যক্তি দিয়ে—-
প্রিয় এক পাঠক আমাতে মুগ্ধ হয়ে বলেছিল, বইটি সবার ঘরে ঘরে থাকা উচিত। আমার সামর্থ থাকলে বইটি নিজ খরচে ছাপিয়ে সবার কাছে বিলি করতাম!

বইটি অর্ডার করতে ক্লিক করুন…

 

পাঠ পর্যালোচনা: ইয়াসমিন
Facebook Comments