ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৫ আগস্ট ২০২১
  1. ইসলাম
  2. ছোট গল্প
  3. বই
  4. বিজ্ঞান-ও-প্রযুক্তি
  5. বিনোদন
  6. বিশ্বকোষ
  7. ব্যবসা
  8. ভিডিও
  9. ভ্রমণ
  10. মার্কেটিং
  11. মোটিভেশনাল স্পিচ
  12. স্বাস্থ্য বিষয়ক
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইভ্যালিতে যেকারনে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যমুনা গ্রুপ

প্রতিবেদক
Yeasin Ahmad
আগস্ট ৫, ২০২১ ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ই -কমার্স (ইলেকট্রনিক কমার্স নামেও পরিচিত) হল পণ্য বা সেবা ক্রয় -বিক্রয়, অর্থ স্থানান্তর, এবং ইলেকট্রনিক মাধ্যমের (ইন্টারনেট) মাধ্যমে তথ্য স্থানান্তর করার প্রক্রিয়া। এই নেটওয়ার্ক মানুষকে দূরত্ব এবং সময়ের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই ব্যবসা করতে দেয়। বাংলাদেশে বর্তমান সময়ের সবচাইতে আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ এবং অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমেও চলছে ইভ্যালি প্রসঙ্গে নানা আলোচনা-সমালোচনা। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে ইভ্যালি প্রসঙ্গ এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে দেশের গণমাধ্যমেও বিভিন্ন ধরনের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এরমধ্যেই ইভ্যালির প্রধান কার্যালয় বন্ধ এবং হট লাইনেও তারা গ্রাহক ও মার্চেন্টদের ফোন রিসিভ করছে না। তারপরেও ইভ্যালিতে ১০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে যমুনা গ্রুপ। প্রাথমিকভাবে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে যমুনা।

ইভ্যালির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় সর্বপ্রথম ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে যমুনা গ্রুপ তারপর ধারাবাহিকভাবে সর্বমোট ১০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে তারা। ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল যমুনা গ্রুপকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, একটি দেশি কোম্পানির পাশে আরেকটি দেশি কোম্পানি দাঁড়ানোতে আমরা খুবই আনন্দিত।

বর্তমান সময়ে গ্রাহকদের কাছে থেকে অগ্রিম টাকা নেয় ইভ্যালি এবং সময় অনুযায়ী পন্য না দিতে পারায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অনেক ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে যেটি ইভ্যালির জন্য নেগেটিভ প্রভাব ফেলে। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দুদক সহ ইভ্যালিকে তদন্ত করে খতিয়ে দেখতে নোটিশ প্রদান করে। এর মধ্যেই গত মঙ্গলবার যমুনা গ্রুপের কাছে থেকে বিনিয়োগ পাওয়ার ঘোষণা পায়।

নতুন বিনিয়োগ পাওয়ার পর ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল জানান গ্রাহকদের যত পুরনো অর্ডার পেন্ডিং আছে সব গুলো খুব তাড়াতাড়ি তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে যমুনা গ্রুপের পরিচালক মনিকা ইসলাম বলেন যমুনা গ্রুপ অফলাইন মার্কেট যমুনা ফিউচার পার্ক দেশের বাঁজারে মানসম্মত পণ্য ও সেবা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে সফল ভাবে ব্যবসা করে আসছে। ঠিক তেমনি বাংলাদেশের ই-কমার্স প্লাটফর্ম ইভ্যালির সাথে বিনিয়োগ করে সফলভাবে বাণিজ্য করবে তারা।

যমুনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম ইসলাম ইভ্যালির বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ইভ্যালি বাংলাদেশের মধ্যে পরিচিত একটি ই-কমার্স বাণিজ্য প্লাল্টফর্ম। দেখা যায় বিশ্বের প্রতিটি দেশের ই-কমার্স গুলো দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য অনেক বেশী কার্যকর ভুমিকা পালন করে।

যমুনা গ্রুপ ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশের তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে। তিনি বলেন ইভ্যালি এবং যমুনা গ্রুপ এক হয়ে কাজ করলে দেশের মানুষের স্বপ্ন পূরণ ও ই-কমার্সকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে।

মনিকা ইসলাম বলেন বলেন ইভ্যালির সৎ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য দেখেই তারা তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এবং একসাথে বাণিজ্য করার সংকল্প করেছে।

এখানে উল্লেখ্য গত ১৬ জুন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে ইভ্যালি নিয়ে একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে বলা হয়, গত ১৪ মার্চ পর্যন্ত ইভ্যালির গ্রাহকের কাছে ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ ৬ হাজার ৫৬০ টাকা এবং মার্চেন্টদের কাছে ১৮৯ কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৪ টাকা দেনা রয়েছে। এসবের বিপরীতে ইভ্যালির মোট সম্পদের পরিমাণ ৯১ কোটি ৬৯ লাখ ৪২ হাজার ৮৪৬ টাকা। এরমধ্যে চলতি মূলধন রয়েছে মাত্র ৬৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৩৭৩৬ টাকা।

এটি প্রকাশের পরপরই বিপাকে পড়ে ই-ভ্যালি। বেশ কয়েকটি ব্যাংক তাদের ক্রেডিট কার্ডে ই-ভ্যালিতে কেনাকাটা স্থগিত করে। সার্বিক পরিস্থিতিতে পুরোনো অর্ডারগুলো ইভ্যালি ডেলিভারি দিতে পারবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। গুঞ্জন রটে ইভ্যালি বিদেশে টাকা পাচার করেছে এবং তারা ব্যবসা গুটিয়ে ফেলবে। বিভিন্ন পক্ষ থেকে ইভ্যালি বন্ধ করে দেওয়ারও দাবি ওঠে।

এ অবস্থায় শনিবার (২৪ জুলাই) রাত ১১টায় ফেসবুক লাইভে এসে ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ‘ইভ্যালি বন্ধ করে কোনো সমাধান হবে না। কোনো প্রতিষ্ঠানই বন্ধ করে ইনভেস্টমেন্ট ফেরত আনা সম্ভব নয়। তাই আমাদের ব্যবসা করার সুযোগ দিন, আমরা কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেব না। সুযোগ দিলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে পুরনো সব অর্ডার ডেলিভারি দেব।

Facebook Comments