ওগো শুনছো

ওগো শুনছো।
মুহাম্মাদ আতীক উল্লাহ
গল্প প্রিয় মানুষ আমরা। আমাদের জীবন যাপন। আমাদের চিরায়ত অভ্যেস। সমস্তই গল্পের সমষ্টি। গল্পহীন মানুষ হয় না, জীবন হয় না। তেমনই হরেক গল্পের আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে একটি মলাটের দুটি পাট একত্র হয়ে ওঠে জীবনের মত সুন্দর হয়ে।
‘ওগো শুনছো’ বইটির নাম। নামের ভেতর একটা আবেগ আর ভালবাসার টান আছে। বাংলা ভাষায় এই বিষয়টা বড় সুন্দর। একটা শব্দ তার ভেতরের থেমে থাকা আবেদনের জানান দেয়। আমরা যেমন বলি― মায়াবী। শব্দ থেকে মাথায় একটা মায়ার মত চিত্র আঁকা হয়ে যায়। তেমনই ওগো শুনছো বললে মনে হয় কত দরদ আর কোমলতার একটা অর্থবহ শব্দ। ভেতরে কি সুন্দর এক আবেদন জড়িয়ে আছে। ঠিক বইয়ের ভেতরের গল্প আর চিত্রগুলোও নামের মত বড় সুন্দর, সচ্ছ, পরিষ্কার।
গল্প কেবল গল্প হয় না। নিহীত থাকে নিগূঢ় তত্ব ও তথ্যে মোড়া শিক্ষার সমাহার। এই বইতেও বেশ ভালো কিছু শিক্ষণীয় জীবনের গল্প, শিক্ষার গল্প, আর ভাললাগা–ভালবাসা ও আবেগের গল্প মোথিত হয়েছে। প্রতিটা গল্প যেমন সুন্দরের চিত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে তেমনই সেখানে নিহিত শিক্ষা ও জীবনযাপনের পরিণত বোধ ও ব্যাপ্তি।
প্রতিটা গল্পই একেকটা নিদর্শন বা সাজেশন, মানুষের জন্য। চিরায়ত জীবনের ক্যানভাসে লেখক যেন একেকটা চিত্র বড় সুন্দর ভাবে ভেঙে ভেঙে গড়েছেন।
যেমন: বই থেকে―
‘দুই এতিমের সংসার।’ গল্পের নাম থেকেই হত দরিদ্র একটা পরিবার, একটা সংসারের দিকে স্পষ্ট দৃষ্টি গোচরীভূত হয়। কিন্তু অর্থ–বিত্ত আর বৈভবই জীবনের পুর্ণতা বা পরিশুদ্ধতা নয় সেটা বোঝা যায় গল্পের আঙ্গিক যাপনে। ভেতরের চিত্র থেকে যেই কোমল স্নিগ্ধ এক পবিত্র জীবনের গল্প ভেসে ওঠে সেখানে নেই অর্থ কড়ির প্রাচুর্য কিন্তু আছে অগাধ পবিত্রতা পরিশুদ্ধতা মিশ্রিত প্রেমের আবেদন। যা একটা জীবনকে, একটা পরিবারকে, একটা সমাজকে, এই শিক্ষা দেয় যে সব কিছুর মূলে অন্তরের পরিশুদ্ধতা, পবিত্রতা, আর প্রাচুর্যতা প্রয়োজন। নয়তো একটা অর্থ–বিত্তের জীবন আমরা কেবল যাপন করেই যাবো যন্ত্র মানবের মত। কিন্তু সেখানে পবিত্র সুবাস থাকবে না। থাকবে না অন্তরের প্রশান্তি। আর মায়া ও কোমলতার স্পর্শ।
‘জান্নাতমহল’ শিক্ষার আবরণে হেসে খেলে পরলৌকিক জীবনের গল্প। পবিত্র ও সুন্দর জীবনে যখন আনন্দের ভেতর দিয়ে আমার জীবনের মূল উৎসের দিকে আমার প্রতিটা ক্ষণ, প্রতিটা মুহূর্ত আরোপিত হয়। এর সূচনাটা হওয়া দরকার ছোট সময় থেকে। হওয়া দরকার পরিবার থেকে। বাসা থেকে। বাবা–মা থেকে। তারাই আমাদের শিক্ষার মূল উৎস। বোঝার, বোঝানোর, দীক্ষা দেয়ার মূল মাধ্যম। তারা কিভাবে শিশু সুলভ আচরণের স্পর্শে একটা শিশুকালকে পরিছন্ন ভাবে আনন্দে হেসে খেলে উন্নত আর পরলৌকিক জীবনের দীক্ষায় আবিস্ট করতে পারে তার প্রকৃত চিত্র ফুটে ওঠে গল্পের ছায়ায়।
এভাবে ভেতরে থাকা একেকটা গল্প একেকটা পরিচ্ছন্ন জীবনের পরিচ্ছন্ন দীপ্তি হয়ে ফুটে আছে। আমাদের কেবল স্পর্শ দেয়ার অপেক্ষায়। আমরা চাইলেই হাত বাড়িয়ে সেই মাধুর্যতা, সেই দীক্ষা, সুন্দর অনুভূতিতে নিজের মধ্যে রোপণ করতে পারি।
গল্প গুলো সাবলীল, সহজ, সুন্দর ভাষায় বলে যাওয়া। মূলত সাহিত্যের শিক্ষা নয়, এখানে লেখক চেয়েছেন মানুষের জীবনকে পরিচ্ছন্ন করার কিছু নীতিমালা গল্পের মত বাস্তব জীবনের চিত্র তুলে দেয়ার মাধ্যমে বলে যেতে। তাই সাহিত্যের অধিক, জীবনকে পড়বার মানসে আমরা এর পাঠ নিতে পারি। বিবাহ এবং বৈবাহিক সুন্দর জীবনের ফুলেল সৌরভতা নিজের জীবনে মেখে নিতে পারি। সর্বপরি ধর্মীয় আঙ্গিক পরিচ্ছন্ন জীবন যাপনের সহায়ক, পরিচ্ছন্ন নীতিমালা এসবই এমন জীবন এনে দেয়ার জন্য সমূহ ভূমিকা রাখে। তাই ধর্মীয় পরিবেশ ও নীতিমালাই এর প্রকৃত আশ্রয়। সেদিকটি বহাল রেখে এই গল্প গুলোর পাঠ নিলে আমাদের জীবন, বিবাহ পরবর্তী সময়, সন্তান, পরিবার, বাবা–মা সমস্ত কিছু এক অদ্ভুত আবহ–আঙ্গিকে বড় পরিচ্ছন্ন মোহনীয়তায় দোল খাবে বলে আমার বিশ্বাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *