ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৬ আগস্ট ২০২০
  1. ইসলাম
  2. ছোট গল্প
  3. বই
  4. বিজ্ঞান-ও-প্রযুক্তি
  5. বিনোদন
  6. বিশ্বকোষ
  7. ব্যবসা
  8. ভিডিও
  9. ভ্রমণ
  10. মার্কেটিং
  11. মোটিভেশনাল স্পিচ
  12. স্বাস্থ্য বিষয়ক
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ওয়ালটনের মার্কেটিং নেটওয়ার্ক কত বড়?

প্রতিবেদক
dipu
আগস্ট ৬, ২০২০ ১:৪৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মুহাম্মদ আলামিন হৃদয়:

ওয়ালটন বিশ্ববাজারে বাংলাদেশী সেরা ডিজিটাল পন্য  উৎপাদনকারী একটি কোম্পানি। আজকে আপনাদের সাথে আলোচনা করার চেষ্ঠা করবো ওয়ালটন  কোম্পানির খুঁটিনাটি বিষয় সম্পর্কে।  ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কি.মি আয়তনের এই ভূখন্ডে হাজার হাজার আমদানিকারক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান রয়েছে।  কিন্তু ওয়ালটনের মতো সাফল্য খুব কম ব্যবসায়ীরা পেয়েছে। আজকে আপনাদের সাথে যে বিষয় গুলো আলোচনা করবো তা হলো,

১.ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।
২.কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ওয়ালটন কোম্পানি?
৩.ওয়ালটন কোম্পানির মার্কেটিং নেটওয়ার্ক কত বড়?
৪.কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ওয়ালটন কোম্পানির অবদান।
৫.ওয়ালটনের পণ্য গুলো কি কি?
৬.ব্র্যান্ড হিসাবে ওয়ালটনের সফলতা?
৭.পুরো বিশ্বজুড়ে ওয়ালটন কোম্পানির মার্কেটিং।
৮.ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কারখানা কত বড়?
৯.ওয়ালটন মাইক্রো-টেক কর্পোরেশনের কারখানা।
১০.ওয়ালটন পরিবেশ রক্ষার জন্য কি কি পদক্ষেপ গ্রহন করে?
১১.ওয়ালটনের ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডঃ
২০০৬ এ গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রি তাদের ম্যানুফেকচারিং ইন্ডাস্ট্রি চালু করে। ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, যা ওয়ালটন  নামে পরিচিত। ওয়ালটন বাংলাদেশের একটি বেসরকারী লিমিটেড সংস্থা।  ১৯৭৭ সালে এস.এম নুরুল আলম রিজভির হাত ধরে বাণিজ্যিক  প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে ওয়ালটন। ১৯৭৭ সালে  স্থানীয় ইলেকট্রনিক্স বাজারে ওয়ালটন প্রবেশ করে সাদাকালো টেলিভিশন সেট আমদানি করে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ওয়ালটন অত্যন্ত উন্নতমানের টেকসই টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, এ/সি এবং মোটরসাইকেল মোবাইল ফোন, জেনারেটর, ওয়াশিং মেশিন, আয়রন ইত্যাদি প্রস্তুত করে। ওয়ালটনের পণ্যগুলির অসাধারণ নকশা, এবং সাশ্রয়ী মূল্যের দামের জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষের মন জয় করেছে। যার ফলাফল ওয়ালটন এখন বাংলাদেশের প্রতিটি বাড়িতে বিশ্বস্ত একটি ব্র্যান্ডের নাম হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে।

কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ওয়ালটন?
প্রতিটি কোম্পানি গড়ে ওঠার পিছনে একটি গল্প থাকে একটি ইতিহাস থাকে। ওয়ালটনের কর্পোরেট ইতিহাস বলতে গেলে  ওয়ালটন প্রতিষ্ঠাতা করেন ওয়ালটনের চেয়ারম্যান এস, এম,নজরুল ইসলাম। তিনি বাংলাদেশের টাঙ্গাইলের এক সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তিনি  তার ব্যবসায়ী পিতা এস এম আতাহার আলী তালুকদার ১৯০১-১৯৮২ এর কাছ থেকে ব্যবসায়ের সমস্ত কলা কৌশল অর্জন করেন। ওয়ালটনের করপোরেট ইতিহাস সম্পর্কে বলতে গেলে যার ঋণ সবচেয়ে অনস্বীকার্য,তিনি হলেন  উদ্যোক্তা এবং স্বপ্নদ্রষ্টা  এস এম নজরুল ইসলাম। আজকের ওয়ালটনের যত সুনাম, তার আষ্টেপৃষ্ঠে এই মানুষটির অবদান। ১৯৪৭ সালে ব্রিটেন ভারতীয় উপমহাদেশ ছেড়ে আসার পরে এস এম নজরুল ইসলাম তার বাবার ব্যবসায় যোগ দিয়েছিলেন। তাঁর এই দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে ব্যবসায়ে অনেক নতুন নতুন  উদ্ভাবন এবং বৈচিত্র্য আনতে সক্ষম হন। তিনি ১৯৭৭ সালে ওয়ালটনের মূল সংস্থা রেজভি এবং ব্রাদার্স গঠন করেন। তার গতিশীল, দূরদর্শী এবং শক্তিশালী নেতৃত্বের মাধ্যমে ওয়ালটনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান।

ওয়ালটনের পণ্য গুলো কি কি?

ওয়ালটন উন্নতমানের টেলিভিশন ,ফ্রিজারেটর, ফ্রিজার,  এ/সি এবং মোটরসাইকেল মোবাইল ফোন, জেনারেটর, ওয়াশিং মেশিন, আয়রন ইত্যাদি পন্য প্রস্তুত করে।

ব্র্যান্ড হিসাবে ওয়ালটনের সফলতা?
আমাদের পন্য স্লোগানটি দিয়ে ওয়ালটন বুঝাতে চায়, ওয়ালটন দেশের জন্য সেটা পণ্যটি দিতে প্রস্তুত। ইলেকট্রিনিক্স, অটোমোবাইল,টেলিভিশন, ফ্রিজ এইসব পন্য বাজারে আনার মধ্যে দিয়ে ওয়ালটন বাজারে প্রবেশ করেছিল। এখন ওয়ালটন বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে সমাদৃত। এতে বুঝা যায় ওয়ালটন ব্রান্ড হিসেবে প্রকৃত সফলতা অর্জন করেছে।

পুরো বিশ্বজুড়ে ওয়ালটন কোম্পানির মার্কেটিংঃ
গুণমান, নির্ভরযোগ্যতা, এবং স্থায়িত্বের জন্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও বাড়ছে  ওয়ালটনে পণ্যর চাহিদা । ওয়ালটন সাফল্যের সাথে বিশ্বের ২০ টি দেশে তার পণ্য রপ্তানি করে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ওয়ালটনঃ
কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ওয়ালটনের ভূমিকা সুদূর প্রসারী এবং ব্যাপক। আর সেটা হলো প্রতোক্ষ এবং পরোক্ষ। ওয়ালটন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বাংলাদেশে ৩০ হাজারেরও বেশি লোককে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছে । এদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার, টেকনিশিয়ান, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শ্রমিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিটি কর্মচারীর প্রত্যেকের উপরে যদি গড়ে পাঁচ জন নির্ভর করে। সুতরাং, ওয়ালটন দেশের আনুমানিক দেড় লাখ লোকের জীবিকা নির্বাহে অবদান রাখছে।

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কারখানা কত বড়?
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বৈদ্যুতিক, ইলেকট্রনিক্স এবং অটো-মোবাইল উৎপাদন কারখানাটি  গাজীপুরের চন্দ্রায় অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের একটি স্বয়ংক্রিয় এবং পরিপূর্ণ কারখানা। কারখানার আয়তন  ২.১৬ মিলিয়ন বর্গফুট। কারখানার ভিতরে  বেশ কয়েকটি ইউনিট রয়েছে। যেখানে রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, মোটরসাইকেল, এয়ার-কন্ডিশনার এবং তাদের খুচরা যন্ত্রাংশের বিভিন্ন উপাদানগুলি ডিজাইন,একত্রিত করা হয়।

ওয়ালটন কোম্পানির মার্কেটিং নেটওয়ার্ক কত বড়?
একটি কোম্পানির সফলতা নির্ভর করে সেই কোম্পানির নেটওয়ার্ক কতটা বিশাল তার উপর। সেই দিক দিয়ে  ওয়ালটনের সারা বাংলাদেশ জুড়ে বিশাল মার্কেটিং নেটওয়ার্ক রয়েছে।  ১৪০ টি প্লাজা  মালিকানাধীন শো-রুম এবং ডিলারদের শো-রুম সহ ৫০০০টিরও বেশি আউটলেটগুলির মাধ্যমে পণ্য বিক্রয় করে।

কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ওয়ালটন?

ওয়ালটন মাইক্রো-টেক কর্পোরেশনের কারখানাঃ
ওয়ালটন মাইক্রো-টেক কর্পোরেশনের কারখানাটি গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কারখানার পাশাপাশি অবস্থিত। এলইডি, এলসিডি এবং সিআরটি টেলিভিশন এবং তাদের অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ সহ ওয়ালটন ব্র্যান্ডের টেলিভিশনের সমস্ত ধরণের ডিজাইন, তৈরি করা হয় ওয়ালটন মাইক্রো-টেক কর্পোরেশনের কারখানায়।

ওয়ালটন পরিবেশ রক্ষার জন্য কি কি পদক্ষেপ গ্রহন করে?
ওয়ালটন পরিবেশ রক্ষা করে উৎপাদন করার ক্ষেত্রে বদ্ধপরিকর। তারা এমন সব পণ্য উৎপাদন করে যা পরিশের সাথে খাপ খেতে সাহায্য করে। যেমন ওয়ালটন পুরো উৎপাদন প্রক্রিয়াতে সিএফসি-মুক্ত গ্যাস ব্যবহার করে। এবং রেফ্রিজারেটর এবং এয়ার-কন্ডিশনারগুলিতে পরিবেশ বান্ধব পলিও-সোকানুরেট ইনসুলেশন ব্যবহার করে। ওয়ালটন মোটরসাইকেলের 2-স্ট্রোক ইঞ্জিনগুলি এড়িয়ে চলে।

ওয়ালটনের ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?

ওয়ালটনের ভবিষ্যতে প্রতি বছর ৩ মিলিয়ন রেফ্রিজারেটর এবং এয়ার-কন্ডিশনার তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। যা দেশের চাহিদা পূরন করে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এছাড়াও ওয়ালটন বিভিন্ন উন্নতমানের এবং ডিজাইন সম্পন্ন স্মার্টফোন এবং ফিচার ফোন উভয়ই তৈরি করবে। ওয়ালটনের ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় তারা ফিরিয়ে আনতে চেয়েছে মানুষের নিজের দেশের পণ্যের প্রতি ভালোবাসা।

ওয়ালটন মন্তব্য করতে গেলে এইটুকু বলতে হয় যে, ওয়ালটন কেবল শুধু ব্যবসা করছে না। ব্যবসা ছড়াও বিভিন্ন সামাজিক কার্যকর্মের সাথে জড়িত আছে। ওয়ালটন নতুন প্রযুক্তি ও দক্ষতার সাথে তার প্রতিযোগিতা আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং প্রমাণ করবে যে “মেড ইন বাংলাদেশ” চূড়ান্ত আত্মবিশ্বাসের জায়গা।

Facebook Comments