ঢাকাবুধবার , ১১ আগস্ট ২০২১
  1. ইসলাম
  2. ছোট গল্প
  3. বই
  4. বিজ্ঞান-ও-প্রযুক্তি
  5. বিনোদন
  6. বিশ্বকোষ
  7. ব্যবসা
  8. ভিডিও
  9. ভ্রমণ
  10. মার্কেটিং
  11. মোটিভেশনাল স্পিচ
  12. স্বাস্থ্য বিষয়ক
আজকের সর্বশেষ সবখবর

করোনা চিকিৎসায় আশার আলো দেখাচ্ছে কালোজিরা

প্রতিবেদক
Yeasin Ahmad
আগস্ট ১১, ২০২১ ৯:০০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

করোনা চিকিৎসায় আশার আলো দেখাচ্ছে কালোজিরা।

সভ্যতার আলো ফোটার থেকেই কালিজিরা মানবদেহের নানা রোগের প্রতিষেধক এবং প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। এ জন্যই এই জিনিসটিকে অনেকে কালিহিরা বলেন। এটি শুধুই একটি মসলা নয়। এর কাজ শুধু খাবারের স্বাদ বৃদ্ধিতেই নয়, আয়ুর্বেদিক ও কবিরাজি চিকিৎসায়ও কালিজিরার ব্যবহার হয়। কালিজিরার বীজ থেকে একধরনের তেল তৈরি হয়, যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে আছে ফসফেট, আয়রন এবং ফসফরাস। এ ছাড়া কালিজিরা বিভিন্ন রোগের হাত থেকে দেহকে রক্ষা করে।

কালোজিরার ব্যাপক ব্যবহার সম্পর্কে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশনা দিয়েছেন। কখনও তা এককভাবে এবং কখনও অন্য কোন খাবার বা পথ্যের সাথে মিশিয়ে তা ব্যবহার করা হয়। কালোজিরার বহুমুখী ব্যবহার আমাদের সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় উষ্ণভাবে ব্যবহার ও উষ্ণতায় বিপরীতভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে তা বেশ উপকারী হিসেবে পরীক্ষিত। ইমাম কিরমানীর মতে, সাধারণভাবে তা সকল রোগের মহৌষধ। (ফাতহুল বারী ১০ম খন্ড, হাঃ ৫৬৮৮)

কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো, করোনা চিকিৎসায় আশার আলো দেখাচ্ছে কালোজিরা।

কালোজিরাতে প্রায় শতাধিক পুষ্টি ও উপকারী উপাদান আছে। কালিজিরা নিয়মিত খেলে আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এতে রয়েছে ক্যান্সার প্রতিরোধক ক্যারোটিন ও হরমোনের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধকারী উপাদান, পাচক এনজাইম ও অম্লনাশক উপাদান এবং অম্লরোগের প্রতিষেধক। সিডনির একটি গবেষণার সমীক্ষায় বলা হচ্ছে, এতে রয়েছে থাইমোকুইনোন নামে একটি উপাদান, যা করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। ভাবতে অবাক লাগলেও এই রকম সম্ভাবনার কথাই বলছেন বিজ্ঞানীরা। গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম নাইজেলা স্যাটিভা। আর এটিই বছরের পর বছর ধরে উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম এশিয়ার নানা দেশে সংক্রামক অসুখ কমানোর জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। উচ্চরক্তচাপ, অ্যালার্জি, ত্বকের সংক্রমণ কমাতেও কালোজিরের ভূমিকা অব্যর্থ। গবেষণার সমীক্ষায় বলা হচ্ছে, কালোজিরার থাইমোকুইনোন নামে উপাদানটি করোনাভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের সঙ্গে আটকে যায়, ফলে ভাইরাসটি ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটাতে পারে না। এ ছাড়া করোনা রোগীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিপজ্জনক যে ‘সাইটোকাইন স্টর্ম’, সেটিও আটকে দিতে পারে কালোজিরা। সেই কারণেই করোনা চিকিৎসায় আশার আলো দেখাচ্ছে কালোজিরা। তবে কিছু সমস্যা এখনও রয়ে গেছে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ওষুধ তৈরির উন্নত পদ্ধতি ব্যবহার করে এই সমস্যা কাটানো সম্ভব। তখন ওরাল মেডিসিন হিসেবেও এটি নেওয়া যাবে। তবে এখনও পর্যন্ত রোগীদের নাকের স্প্রে হিসেবেই এর ব্যবহার হয়েছে।

উপসংহারঃ
গবেষণায় দেখা যায়, কালোজিরা ব্যবহারের ফলে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়। টিস্যু সুরক্ষিত থাকে, ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয় না । এছাড়া মধুও ভাইরাস সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। পাশপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়। পাশাপাশি চামেলি ফুলের নির্যাস শরীরের তাপমাত্রা কমাতে জাদুকরি কাজ করে। তাই আমাদের প্রতিদিন অল্প অল্প কালোজিরা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

Facebook Comments