ঢাকাবুধবার , ২৯ এপ্রিল ২০২০
  1. ইসলাম
  2. ছোট গল্প
  3. বই
  4. বিজ্ঞান-ও-প্রযুক্তি
  5. বিনোদন
  6. বিশ্বকোষ
  7. ব্যবসা
  8. ভিডিও
  9. ভ্রমণ
  10. মার্কেটিং
  11. মোটিভেশনাল স্পিচ
  12. স্বাস্থ্য বিষয়ক
আজকের সর্বশেষ সবখবর

করোনা ভাইরাস কিভাবে ছড়ায়?

প্রতিবেদক
Yeasin Ahmad
এপ্রিল ২৯, ২০২০ ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মোহাম্মদ আল-আমিন (হৃদয়)
বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত নাম SARS CoV-2,সাধারণত লোকজন একে করোনা ভাইরাস বা COVID-19 নামেই চেনে। ভাইরাসটির আরেক নাম ২০১৯ – এনসিওভি বা নভেল করোনাভাইরাস। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য মতে ,বিশ্বব্যাপী  SARS CoV-2 ভাইরাসে আক্রান্তের রোগীর সংখ্যা ১৮ লাখে পৌঁছেছে। 


 এখন প্রশ্ন হচ্ছে ভাইরাসটা আসলে কি? ক্ষুদ্র এই ভাইরাসটি মাত্র ১২০ ন্যানোমিটার। COVID-19 ভাইরাসটি এতোই ক্ষুদ্র যে একে খালি চোখে দেখা যায় না। শুধুমাত্র বৈদ্যুতিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যেই দেখা সম্ভব। ভাইরাস সাধারনত একাকী অর্ধমৃত অবস্থায় থাকে যা শুধুমাত্র কোন জীবন্ত কোষে প্রবেশ করলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে এই প্রক্রিয়াকে বলে লাইটিক চক্র। বিভিন্ন উপায়ে ভাইরাস মানুষ ও প্রাণীর দেহে প্রবেশ করতে পারে। বহু ভাইরাস আছে যেগুলো পশু-পাখির শরীর থেকে মানুষের দেহে প্রবেশ করে। তবে সাধারনত ভাইরাস এক প্রাণী থেকে অন্য প্রানীর দেহে প্রবেশ করে না। কিন্তু কখনো কখনো ভাইরাস বিবর্তনের মাধ্যমে অন্য প্রাণীর দেহে প্রবেশ করতে পারে। 
যখন একটি ভাইরাস বিবর্তনের মাধ্যমে অন্য প্রানীর দেহে প্রবেশ করে তাকে  বলা হয়, “Spillover inection” প্রথমে করোনা ভাইরাস Spillover inection মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করেছে। তবে ঠিক কোন প্রানী হতে নবেল করোনা ভাইরাস মানব শরীরে প্রবেশ করেছে এই নিয়ে বেশ বির্তক রয়েছে। 


করোনা ভাইরাস শরীরে একবার প্রবেশ করার পর ভাইরাসটি মানুষ থেকে মানুষে প্রবেশ করেছে। কোন আক্রান্ত ব্যক্তি যখন অন্য কারো সংস্পর্শে আসে তখন ঐ আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি  কাশি বা কথা বলার সময় মুখের জলকণা থেকে করোনার জীবাণু ছড়াতে পারে। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির স্পর্শ করা  কোন বস্তু থেকেও ভাইরাসটি অন্য কারো হাতে চলে যেতে পারে। হাতের সাথে  লেগে থাকা ভাইরাস চোখ মুখ স্পর্শ করার মাধ্যমে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে।


(COVID-19) ভাইরাসটি  আমাদের শরীরে প্রবেশ করার পরপর সবচেয়ে বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে আমাদের ফুসফুসে। ভাইরাস গুলো এদের দেহের বাইরে প্রোটিনে লেগে থাকা কাঁটার সাহায্য মানব কোষে প্রবেশ করে। বিষয়টা অনেকটা চাবির সাহায্যে তালা খোলার মতো। ভাইরাসের এই প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রন করে ভাইরাসের ভিতরে থাকা  RNA বা (Ribonucleic Acid) এই (Ribonucleic Acid) ভাইরাসের জেনেটিক কোড বহন করে। যার ফলে ভাইরাস তার সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে। মানব কোষে ভাইরাস প্রবেশ করার পর ভাইরাসের RNA কোষের নিয়ন্ত্রন নিয়ে নেয়। ভাইরাসটি কোষের নিয়ন্ত্রন নেওয়ার ফলে কোষগুলো মানবদেহে ভাইরাসের কথামত কাজ করতে থাকে।  তখন ভাইরাসের প্রথম কাজ হলো ক্রমাগত তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা। একটি কোষে বিপুল পরিমানে ভাইরাস উৎপন্ন হয়ে গেলে এক পর্যায়ে ভাইরাসটি গলে যায়। এবং অসংখ্য ভাইরাস অন্য কোষ গুলোকে আক্রমণ করে। এইভাবেই এক থেকে দশ দিনের মধ্যে লক্ষকোটি ভাইরাস মানবদেহের ফুসফুস দখল করে নেয়। ঠিক এইসময়  ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ শুরু করে মানবদেহের  (Immunity system)বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। এই ইমিউনিটি সিস্টেম শরীরের বিভিন্ন কলা ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি করতে সক্ষম এমন বিভিন্ন জীবাণু ও বিষাক্ত পদার্থকে বাধা দেয়।  


যেহেতু করোনা ভাইরাস ফুসফুসে বেশি ক্ষতি করতে সক্ষম তাই বিপুল পরিমানের Immunity system ফুসফুসে প্রবেশ করে। ফুসফুসে প্রবেশ করার পর ভাইরাস গুলো তখন আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কোষেও আক্রমন করে। ঠিক তখনি ঘটে সবচেয়ে বড় বিপত্তি। ভাইরাস দ্বারা  (Immunity system) আক্রান্ত হওয়ার ফলে উপকারী এই কোষগুলো দিশেহারা হয়ে পড়ে। তখন আমাদের দেহ বুঝতে পারে না  কোনটি উপকারী কোষ আর কোনটি ক্ষতিকর কোষ। এর ফলে আমাদের  (Immunity cell) অসুস্থ কোষের পাশাপাশি অনেক সুস্থ কোষ মেরে ফেলে। 


এক পর্যায়ে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সকল অসুস্থ কোষ মেরে ফেলতে সক্ষম হয়। এই পর্যায়ে বেশির ভাগ করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হয়ে ওঠে। যেহেতু অবস্থা ভেদে সকল ব্যক্তির দেহে গঠন আলাদা তাই ব্যক্তিভেদে সুস্থ হতে ১ থেকে ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।  


বেশিরভাগ ক্ষেত্রে করোনা আক্রান্ত রোগীর জ্বর সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা এবং হালকা লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তবে কিছু কিছু মানুষের জন্য এই ভাইরাসের সংক্রমণ মারাত্মক হতে পারে। সংকটপূর্ণ রোগীর ক্ষেত্রে ফুসফুসে প্রচুর পরিমানে কোষ নষ্ট হয়ে যায়, তখন ফুসফুস ঠিক মত কাজ করে না। যার ফলে রোগী তীব্র শ্বাস কষ্ট অনুভব করে। তখন রোগীর শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে ভেনটিলেটরের সাহায্যে অক্সিজেন সরবরাহের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এক-সপ্তাহ ধরে শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ফলে শরীর প্রচুর দুর্বল হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে সমস্ত শরীরে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও রক্তের মাধ্যমে সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে যায়। এতে ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত  শক্তি ব্যয় করায় আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিজেদের দেহের বেশি ক্ষতি ফেলে। যার ফলাফল রোগী মারা যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
জীবনঘাতী এই ভাইরাসকে পরাজিত করতে ভ্যাক্সিন বা টিকা আবিষ্কারের চেষ্টা চলছে । সাধারনত একটি টিকা বা প্রতিষেধক সফলভাবে বের করে আনা বেশ জটিল কাজ। তবে গবেষকরা বলছেন করোনা ভাইরাসের ভ্যাক্সিন বাজারে আসতে “১২থেকে ১৮ ” মাসের মতো সময় লাগবে। কিন্তু ততদিনে আমাদের কিছু নিয়ম মেনে চলতে  হবে যেমন,


১. আক্রান্ত ব্যক্তি হতে কমপক্ষে দুই হাত দূরে থাকতে হবে।

২.বারবার প্রয়োজন মতো ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে।

৩.হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে হবে। 

৪. এবং করোনা রোগের লক্ষন দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।
পরিশেষে এইটুকু বার্তা দিতে চাই যে, এই করোনা ভাইরাসটি ভয়াবহ গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এটি প্রতিরোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। তাই আসুন সবাইকে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে  নিজে সচেতন থাকি অন্যকে সচেতন রাখি। কারন আপনি আমি ভালো থাকলে ভালো থাকবে আমাদের প্রিয় চির-সবুজ এই বাংলাদেশ।

 

Facebook Comments