ঢাকাবুধবার , ২৯ এপ্রিল ২০২০
  1. ইসলাম
  2. ছোট গল্প
  3. বই
  4. বিজ্ঞান-ও-প্রযুক্তি
  5. বিনোদন
  6. বিশ্বকোষ
  7. ব্যবসা
  8. ভিডিও
  9. ভ্রমণ
  10. মার্কেটিং
  11. মোটিভেশনাল স্পিচ
  12. স্বাস্থ্য বিষয়ক
আজকের সর্বশেষ সবখবর

করোনা ভাইরাস থেকে সেরে উঠার গল্প

প্রতিবেদক
Yeasin Ahmad
এপ্রিল ২৯, ২০২০ ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বর্তমান পৃথিবীর আকাশ করোনার মেঘে আচ্ছন্ন হয়ে আছে। যখনি আমরা শুনতে পাই করোনা আক্রান্ত কোন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন তখন আমরা মেঘে ঢাকা আকাশের বুকে এক টুকরো সূর্যের হাসি দেখতে পাই।

এটা বলার অবকাশ নেই যে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কোন ব্যক্তির সুস্থ হয়ে ওঠা একটি দুঃসাধ্য ব্যাপার। বিশেষ করে ভাইরাসটি যখন মানব দেহের ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়ে। কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা যখন তাদের প্রিয়জনের উপস্থিতি ছাড়াই হাসপাতালের কক্ষে একা একা রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে, তখন মনে হয় পৃথিবীটা যেন ভয়ংকর কোন উপ্যনাসের পৃষ্ঠা, আর মানুষ সেই গল্পের চরিত্র।

তুরস্কের ইস্তাম্বুলের কভিড -১৯-এ আক্রান্ত একজন মহিলা বর্ণনা করেছিলেন, কিভাবে মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করে মরণঘাতী কভিড-১৯ ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়েছেন। চলুন গল্পে প্রবেশ করা যাক!

রোজি ডালভা ৩৯ বছর বয়সী একজন প্রশিক্ষিত মনোবিজ্ঞানী। তিনি ইস্তাম্বুলে একটি সংগঠনের নেতৃত্ব দেন, যারা মানুষকে মনের বিকাশ ঘটিয়ে ভয়কে জয় করতে শেখায়। রোজি ডালভা ফুটফুটে দুই সন্তানের মা। সুখেই চলছিল তার সংসার। মার্চের মাঝামাঝি কোন এক সময়ে রোজি ডালভার কোভিড -১৯ এর লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা ও জ্বর দিন দিন বাড়তেই লাগল।

রোজি জানান, আমি অত্যন্ত ক্লান্ত অনুভব করেছিলাম এবং বিছানা থেকে উঠতেই পারছিলাম না। আমি ডাক্তাদের সাথে যোগাযোগ করি। তারা আমাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেন এবং কভিড -১৯ এর চিকিৎসা শুরু করার পরামর্শ দেন। তিনি আরো জানান, শরীরে ব্যথা আমাকে যতটা না কাবু করেছিল, তারচেয়ে বেশি পীড়া দিচ্ছিল আমার মৃত্যুর ভয় ।

রোজি বলেন যে, তিনি একজন চিকিৎসক হিসাবে জানতেন যে, ভয় তার প্যারাসিম্যাথেটিক সিস্টেমকে ভেঙে ফেলবে। যা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সঠিকভাবে কাজ করতে বাধা দিবে। সুতরাং আমি সিদ্ধান্ত নেই যে করে হোক আমার এই ভয়কে জয় করতে হবে৷

রোজি মনোবিজ্ঞানের সাহায্যে তার নিজস্ব প্রক্রিয়ায় চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন। এ ক্ষেত্রে রোজি কিছু কৌশল অবলম্বন করেন। যেমন,

(১) রোজি তার মনকে অতিরিক্ত নেতিবাচক চিন্তা থেকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য টিভি চ্যানেল গুলো না দেখার সিদ্ধান্ত নেন।

(২) তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন সারাদিন আমার মন আমাকে মৃত্যুর ভয়, হারানোর ভয়, নিয়ে তাড়া দিচ্ছিল। আমি সর্বদা আমার মন কে পরিবর্তন করছিলাম আর বলছিলাম, সবকিছু খুব ভাল হতে চলেছে, আমি আবার বাইরে যাব , আমি আবার বাচ্চাদের সাথে থাকব, ছুটিতে যাব, অনেক কিছু করব।

(৩)রোজি বলেন, শরীরের সাথে মনের সংযোগ স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি। COVID-19 এর সাথে যুদ্ধের সময়, আমি কিছু সম্মোহন কৌশল প্রয়োগ করেছিলাম। যার উদ্দেশ্য ছিল আমার দেহকে প্রশান্ত রাখা। আমি আমার শরীরের অঙ্গগুলির সাথে কথা বলতাম। যেমন আমি বলতাম, হাত, পা, বাহু শান্ত হও, সব কিছু ঠিকঠাক আছে, এখন তোমরা নিরাপদ। এবং সত্যিই, সত্যিই এটি আমার শরীর এবং স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখতে সাহায্য করেছে।

এইভাবেই রোজি “মনোবিজ্ঞান এবং সম্মোহন চিকিৎসা” পদ্ধতি ব্যবহার করে COVID-19 ভাইরাস থেকে বের হয়ে আসতে পেরেছিল। রোজি কোভিড -১৯-এর চিকিৎসা চলাকালীন,খবর পেয়েছিলেন যে তাঁর স্বামী ইজেটও সংক্রামিত হয়েছেন। তাকেও একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই সংবাদটি রোজিকে খুব আহত করছিল – তবে ঘন ঘন ভিডিও কল দিয়ে দুজন একে অপরকে সমর্থন করেছিল।

ইজেট বলেছেন যে কভিড -১৯ তাকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির স্মরণ করিয়ে দিয়েছিল। ছোট্ট পারিবারিক জমায়েতগুলি কতটা মূল্যবান ছিল, সেগুলি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল ইত্যাদি এমন সব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছিল যা আসলে খুব তুচ্ছ।

একজন থেরাপিস্ট হিসাবে, বর্তমানে রোজি ভাবছেন, মানুষ কে ভাইরাস থেকে রক্ষা করে কিভাবে উপকৃত করা যায়৷ রোজি আরো মনে করেন, অন্তর্দৃষ্টি এবং ইতিবাচক চিন্তা ভাইরাসের বিরুদ্ধে মানুষকে লড়াই করতে সাহায্য করবে।

হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করার পরে রোজি এবং ইজেট দুজনই সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং বাচ্চাদের কাছে ফিরে এসেছেন । যদিও সে এখনও তাদেরকে জড়িয়ে ধরতে পারে না। তবুও রোজি বলেন যে ” পরিবারের সাথে একত্রে থাকা স্বর্গে থাকার মতই”

Facebook Comments