ঢাকাবুধবার , ১১ আগস্ট ২০২১
  1. ইসলাম
  2. ছোট গল্প
  3. বই
  4. বিজ্ঞান-ও-প্রযুক্তি
  5. বিনোদন
  6. বিশ্বকোষ
  7. ব্যবসা
  8. ভিডিও
  9. ভ্রমণ
  10. মার্কেটিং
  11. মোটিভেশনাল স্পিচ
  12. স্বাস্থ্য বিষয়ক
আজকের সর্বশেষ সবখবর

করোনা ভাইরাস ধুমপায়ীদের জন্য এক আতঙ্কের নাম

প্রতিবেদক
Yeasin Ahmad
আগস্ট ১১, ২০২১ ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ধুমপায়ীদের জন্য এক আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস।

বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে, করোনা ভাইরাস। করোনা ভাইরাস তার দাপটে কাঁপিয়ে দিচ্ছে পুরো বিশ্ব। এই ভাইরাসের কারণে এখন সারা বিশ্বের সবাই আতঙ্কিত। নদীর জোয়ারের মতো এ যেন কোন বাঁধাই মানছে না। দিন যত বাড়ছে আক্রান্ত আর মৃত্যুর সংখ্যা তত বেড়ে চলেছে। এই ভাইরাস এখন সবার মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, সকল বয়সের মানুষের জন্যই এটা বিপদজনক। তবে বয়স্কদের জন্য তো আরো বেশি বিপদজ্জনক, এছাড়াও যারা ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট বা বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত তাদের ক্ষেত্রে এর মরণ ছোবল অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি।
ইতালির স্বাস্থ্য গবেষণা কেন্দ্র জানিয়েছে, করোনা ভাইরাসে যারা মৃতবরণ করেন তাদের প্রায় ৭০ শতাংশই হলো পুরুষ। এবং তাদের ৯০ শতাংশই ধূমপায়ী।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ( WHO) বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাসে কেউ আক্রান্ত হলে যারা ধুমপান করেন না তাদের তুলনায় ধূমপায়ীর অবস্থা জটিল হতে পারে প্রায় ১৪ গুণ। এই মহামারি বিপদ ঠেকাতে ‘টোকিও মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন’ ও ‘জাপান সোসাইটি ফর টোব্যাকো কন্ট্রোল’ সাহায্যর হাত বাড়িয়ে দিয়েছে টোব্যাকো নিয়ন্ত্রনকারী পক্ষ থেকে সমস্ত অফিস-আদালত ও বহুতল আবাসনের কতৃপক্ষের কাছে ধূমপান কক্ষ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। কারণ এসব জায়গা থেকেই একযোগে বেশ কিছু মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে, যাকে বলে ‘ক্লাস্টার ইনফেকশন’।

কেন ধূমপায়ীদের সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি?

কেউ যদি দীর্ঘদিন ধরে ধূমপান করে তাহলে তার ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কমে যায়। কারণ ফুসফুসে ছোট ছোট চুলের মতো দেখতে সিলিয়া থাকে। সাধারণ অবস্থায় সিলিয়া ধুলোবালি, জীবাণু, সব কিছুকে ছেঁকে বিদায় করে দেয়। কেউ যদি কয়েক দিন ধরে প্রচুর ধূমপান করলে তারা অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে। তাই ধূমপায়ীদের মধ্যে যেকোন ধরনের ফুসফুসের সংক্রমণ বেশি হয়। নিউমোনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা, টিবি ইত্যাদির প্রকোপ তাদের মধ্যে বেশি। এই একই কারণে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কাও তাদের বেশি। নিয়মিত ধূমপানে ফুসফুসের কার্যকারিতা কমে যায় বলেও বিপদ হয়।
বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে, ধূমপানের কারণে যদি ‘ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ’ বা ‘সিওপিডি’ নামের রোগ হয়ে থাকে, একবার করোনা পজিটিভ হলে তার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। এছাড়া যিনি ধূমপান করছেন, তার শরীরে যদি ভাইরাস থাকে, তিনি যখন ধোঁয়া ছাড়বেন, সেই ধোঁয়ায় ভর করে ভাইরাসও ছড়িয়ে পড়বে আশপাশে। ওই অ্যারোসল বা বাতাসবাহীত লালার কণায় ভাইরাস বেঁচে থাকতে পারে তিন ঘণ্টা। কাজেই বদ্ধ ঘরে কাছাকাছি বসে ধূমপান করলে অন্যের মধ্যেও ছড়াবে ভাইরাস।

তাহলে বাঁচার উপায় কি?

এখন উপায় হলোএকটাই। ধূমপান ছেড়ে দেওয়া। কিন্তু দীর্ঘদিন ধূমপান করলে এর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতা জন্মায়। হঠাৎ ছেড়ে দিলে যেসব উইথড্রয়াল সিম্পটম হয়, তা সামলাতে পারেন না অনেকেই। কিন্তু বিপদ এড়াতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যেমন- ধূমপান ছাড়তে চাইলে আগে ধূমপান কমান। আগে যদি ২০টা খেতেন, এখন তবে ১০টা খাওয়ার চেষ্টা করুন। সবচেয়ে ভাল হয়, যদি দিনে ৫টায় নামিয়ে আনতে পারেন। বা আরও নীচে। এবার কমাতে কমাতে দিন তিন-চারেকে একেবারে ছেড়ে দিন।

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, যারা ধুমপান করেন তারা, বেশিভাগ সংক্রমিত হন তাদের হাতের কারনে। ধূমপান করার সময়ও মানুষ কিন্তু অসংখ্য বার নাকে-মুখে হাত দেন, দেখা গেল একটু আগেই হয়তো সেই হাতে সিগারেটের প্যাকেট খুলেছেন, দেশলাই জ্বালিয়েছেন, যা হয়তো খানিক আগেই দোকানি বা অন্য কারও হাতে ছিল। কাজেই এদের কারও হাতে জীবাণু থাকলে তা আপনার হাতে-নাকে ও মুখে লেগেছে। আবার মাস্কের সামনের অংশটা ধরে মাস্ক খুলে সেই হাতে সিগারেট ধরিয়েছেন। সেখানে জীবাণু থাকলে, তাও আপনার হাতে লেগেছে। তাই বাঁচতে হলে, আগে সিগারেট ছেড়ে দিতেই হবে। যতক্ষণ না তা পারছেন, ততক্ষণ সিগারেট, সিগারেটের প্যাকেট, দেশলাই বা লাইটার আদান-প্রদান করবেন না। অর্ধেক খেয়ে অর্ধেক আরেকজনকে দেওয়ার তো কোন প্রশ্নই ওঠে না।

Facebook Comments