ঢাকারবিবার , ৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
  1. ইসলাম
  2. ছোট গল্প
  3. বই
  4. বিজ্ঞান-ও-প্রযুক্তি
  5. বিনোদন
  6. বিশ্বকোষ
  7. ব্যবসা
  8. ভিডিও
  9. ভ্রমণ
  10. মার্কেটিং
  11. মোটিভেশনাল স্পিচ
  12. স্বাস্থ্য বিষয়ক
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ডিজিটাল মার্কেটিং কি? কেন করবেন?

প্রতিবেদক
Yeasin Ahmad
সেপ্টেম্বর ৫, ২০২১ ৯:২৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

উদ্যোক্তা গাইড : ডিজিটাল মার্কেটিং কি? কেন করবেন?

ডিজিটাল মার্কেটিং কি?

Digital marketing is the component of marketing that utilizes the internet and online-based digital technologies such as desktop computers, mobile phones, and other digital media and platforms to promote products and services.

ডিজিটাল মার্কেটিং (digital marketing) দুটি শব্দের সমন্নয়ে তৈরি হয়েছে, ডিজিটাল এবং মার্কেটিং। এখানে ডিজিটাল শব্দটি ইন্টারনেটের সাথে সম্পর্কিত এবং মার্কেটিং শব্দটি বিজ্ঞাপনের সাথে সম্পর্কিত। এর থেকে আন্দাজ করা সহজ যে এটি একটি উপায় যার সাহায্যে কোন সংস্থাগুলি তাদের পণ্য মার্কেটিং করে এবং যে মাধ্যমে এই মার্কেটিং টি করা হয় টা হল বৈদ্যুতিক মাধ্যমে। একটু সহজ ভাষায় বলতে গেলে ডিজিটাল মার্কেটিং হলো, ডিজিটাল মার্কেটিং হলো সেই সব ধরণের মার্কেটিং বা প্রচারের প্রচেষ্টা বা মাধ্যমকে বোঝায় যেগুলি বিশেষভাবে একটি (electronic device) বা ইন্টারনেট ব্যবহার করে সম্ভব।

যারা ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রয়োজনীয়তা এখনো বুঝতে পারেননি, তাদের জন্য মুলত আজকের এই আর্টিকেলঃ

Kind of Digital Marketing in Bangla || ডিজিটাল মার্কেটিং এর বিভিন্ন প্রকারভেদঃ

1.Search Engine Optimization (SEO) (সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন)
2.Content Marketing (কনটেন্ট মার্কেটিং)
3.Social Media Marketing (সোসাল মিডিয়া মার্কেটিং)
4.Pay Per Click (PPC) (পিপিসি)
5.Affiliate Marketing (এফিলিয়েট মার্কেটিং)
6.Marketing Automation (মার্কেটং অটোমেশান)
7.Email Marketing (ইমেইল মার্কেটিং)
8.Online PR (অনলাইন পিআর)
9.Referral Marketing (রেফারেল মার্কেটিং)

আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং কেন করবেন?

এর জবাব হতে পারে এমন- খুব স্বল্প সময়ে সঠিকভাবে আপনি আপনার পন্যকে কাস্টমারের কাছে আকর্ষণীয় ভাবে তুলে ধরতে পারবেন। আপনার পণ্য টি যে সকল কাস্টমারের কাছে ব্যপক চাহিদা রয়েছে তাদের সহজে চিহ্নিত করতে পারবেন। আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডের সাথে ব্যবসায়িক ঘাটতি সহজে নির্ণয় করতে পারবেন। এক কথায় ডিজিটাল মার্কেটিং আপনার ব্যবসাকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে। সাড়া বিশ্বে ডিজিটাল মার্কেটিং এর ব্যাপক ব্যবহার হলেও আমাদের দেশে এর তুলনামূলকভাবে চাহিদা অনেক কম।অনেক ব্যবসায়ী ডিজিটাল মার্কেটিংকে তাদের ব্যবসায়ের জন্য প্রয়োজনই মনে করেননা। অথচ ডিজিটাল মার্কেটিং প্রয়োগ করলে সে অনেক নতুন কাস্টমার তৈরি করতে পারেন এবং প্রতিযোগীদের সাথে সহজেই প্রতিযোগিতা করতে পারতেন।

১.গুগল ট্রেন্ড গুলো সহজেই সনাক্ত করা যায়ঃ

মার্কেটিং এর জন্য ট্রেন্ড সবসময় গুরুত্বপূর্ন। ট্রেন্ড মার্কেটিং পদ্ধতিকে পরিবর্তন করে। কারণ মার্কেটিং সবসময় ট্রেন্ড অনুসারে হতে হয়। আবার ট্রেন্ডও সর্বদা পরিবর্তনশীল। তাই একজন মার্কেটারকে সর্বদা ট্রেন্ডের প্রতি লক্ষ রাখতে হয়। ট্রেন্ড সনাক্ত বা ট্রেন্ড অনুসরন করার সবচেয়ে কার্যকরী মাধ্যম হল ডিজিটাল মাধ্যম। ডিজিটাল মার্কেটিং–এ সকল ট্রেন্ড সহজেই জানা যায় ও বুঝা যায়। গুগল ট্রেন্ডে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে কোন ধরণের ট্রেন্ড গুলো চলছে তা দেখা যায়। মার্কেটিং পদ্ধতি তৈরির পূর্বে সেই ট্রেন্ড অনুসারে কৌশল তৈরি করা যায়।

২. ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে কাস্টমারের সাথে সম্পর্ক তৈরি করাঃ

আমারা জানি কাস্টমারের সাথে সম্পর্ক তৈরি করা একটি ব্যবসায়ের জন্য কতটা গুরুল্বপূর্ন। এই সম্পর্ক সহজেই তৈরি করা যায় ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে। ডিজিটাল মার্কেটিং করা হয় ওয়েবসাইট, ব্লগ, ফেসবুক পেইজ, ইউটিউব ভিডিও ইত্যাদির মাধ্যমে যেখানে সরাসরি কাস্টমার তাদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারে। যার মাধ্যমে তাদের সাথে সহজে সম্পর্ক তৈরি হয়। তাদের পছন্দ অপছন্দ সম্পর্কে জানা যায় এবং তার উপর নির্ভর করে উদ্যোগ নেয়া যায় সহজেই। তাই ডিজিটাল মার্কেটিং এই দিক দিয়ে প্রচলিত মার্কেটিং পদ্ধতি থেকে কার্যকরী।

৩.খুব কম খরচে আপনি আপনার ব্যবসায়কে কাঙ্ক্ষিত কাস্টমারের কাছে পৌছাতে পারবেনঃ

প্রচলিত মার্কেটিং পদ্ধতির সাথে ডিজিটাল মার্কেটিং এর সবচেয়ে বড় পার্থক্য হল ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে খুব কম খরচে আপনি আপনার ব্যবসায়কে কাঙ্ক্ষিত কাস্টমারের কাছে পৌছাতে পারবেন। একটি ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে বা একটি ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে আপনার পণ্যকে লক্ষাধিক কাস্টমারের কাছে খুব সহজে পৌছাতে পারবেন যা প্রচলিত লোকাল মার্কেটিং পদ্ধিতে অনেক ব্যয়বহুল। ফেসবুক অ্যাডের মাধ্যমে কয়েক ডলার খরচ করে আমাদের দেশে হাজার মানুষের কাছে পণ্য সম্পর্কিত তথ্য পৌছে দিচ্ছে বিভিন্ন ই-কমার্স কোম্পানী। তাও আবার বয়স, পেশা, ইন্টারেস্ট ইত্যাদির মাধ্যমে টার্গেট করে সঠিক ব্যক্তির কাছে পৌছানো যাচ্ছে। তাই ডিজিটাল মার্কেটিং এর এই সুযোগ লুফে নিচ্ছে পৃথিবীর সকল ছোট বড় কোম্পানী গুলো। আপনি কেন আপনাকে গুটিয়ে রাখবেন।

৪. ভোক্তারা বেশি বেশি ডিজিটাল হচ্ছেঃ

সময় এবং প্রযুক্তির পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রতিটি পণ্যের ভোক্তার মাঝে অনেক পরিবর্তন হচ্ছে। ভোক্তারা এখন কোন পণ্য কেনার আগে দেখতে চায় সেই পন্যটি কেমন? কি কি গুনাবলী রয়েছে? ভোক্তা সেই পণ্য গ্রহন করলে কি কি সুবিধা পাবে? অন্য আর কে এমন ধরণের সেবা প্রদান করে? তাদের সাথে এই পণ্যের পার্থক্য কি? তার পরিচিত কেউ একই পণ্য ব্যবহার করছে কিনা বা সাধারণ জনগন এই পণ্য ব্যবহার করে কি রিভিউ দিচ্ছে ইত্যাদি, এই বিষয়গুলো জানার জন্য ভোক্তা সহজেই ব্যবহার করে তার হাতের মোবাইলটি বা কম্পিউটারটি। আগে একটা সময় ছিল, এই প্রশ্নগুলো ভোক্তা জানতে চাইলেও কম সময়ে সহজেই জানতে পারতেন না কিন্তু এখন গুগল বা ফেসবুক-এ সার্চ দেওয়ার মাধ্যমে দেখতে সহজেই পণ্যের ছবি, পণ্যের বৈশিষ্ট্য এবং পণ্য কোন কোম্পানী সরবরাহ করছে, ভোক্তা মতামত এবং আর অনেক উত্তর খুব সহজেই দেখতে পায় এবং যে সব পণ্য এর তথ্য সহজেই পেয়ে যায় এবং পজিটিভ রিভিউ দেখে সে সব পণ্য কিনতে সব চেয়ে বেশি আগ্রহী হয়। যেহেতু ভোক্তা পণ্য ক্রয় করার পূর্বে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করছে তাই আপনাকেও ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করেই তার কাছে পৌছাতে হবে। আপনাকে ব্রান্ড এবং আপনার পণ্যকে গুগল, ফেসবুক, টুইটার বা ইউটিউবের মাধ্যমে কাস্টমারের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। যেন তারা আপনার ব্রান্ড বা পণ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে সহজেই খুজে পায়। তাহলে আপানর পণ্যের বিক্রয় বৃদ্ধি পাবে। আপনার ব্যবসায়ের উন্নয়ন হবে।

৫. সহজে ট্র্যাকঃ

ডিজিটাল মার্কেটিং এর সাহায্যে আপনি সহজে আপনার কাস্টমার কারা টা জানতে পারবেন। যেমন আপনি যদি একটি ওয়েবসাইট খুলেন তবে গুগল আনালায়টিক্স ব্যবহার করে সহজে ওয়েবসাইটের ভিসিটর সংখ্যা, আপনার রেভিনিউ, সিপিসি, সিটিআর, আপনার ব্র্যান্ড বা প্রোডাক্টের জনপ্রিয়তা সম্পর্কে জানতে পারবেন। এছাড়া ও লাইভ করে বা ইউটিউবে ভিডিও করে এর মাধ্যমে আপনার কেনাবেচা আর বাড়াতে পারবেন।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর সুবিধা (Advantages of Digital Marketing)

ডিজিটাল মার্কেটিং এর সব থেকে বড় সুবিধা হল এটি খুব সহজে (targeted audience) এর কাছে বিজ্ঞ্যাপন পৌঁছে দিতে পারে। এবং এটা খুবই ( cost-effective) এবং (measurable way) তে করা সম্ভব। এছাড়াও (brand loyalty) বাড়ান এবং (online sales) বাড়ানোর মত সুবিধা ত আছেই।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর অসুবিধাঃ

একাধিক ডিজিটাল চ্যানেল (Digital channel ) এর ব্যবহার : অধিকাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারি আলাদা আলাদা কাজের জন্য একাধিক ডিভাইস এবং চ্যানেল ব্যবহার করে। এবং এর জন্য তাদের বিভিন্ন protocol, specification ও interface ব্যবহার করতে হয়। আর ঠিক আই কারনে digital marketer দের সঠিক customer দের target করতে বেশ কিছুটা সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়।
ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার ডিজিটাল চ্যানেলগুলি অন্যান্য traditional মিডিয়াগুলির তুলনায় সস্তা, এটি যে কোনও রকম ব্যবসার জন্য সহজ লোভ্য। এর এই কারনেই গ্রাহকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা কঠিন হয়ে উঠেছে।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন মাধ্যমঃ

-Website

-Branded assets (logo, icon ইত্যাদি)

-Video content (video add, product demos ইত্যাদি)

-ছবি বা Images (infographics, product shots, company photo ইত্যাদি)

-Written content (blog posts, eBooks, product descriptions, testimonial ইত্যাদি)

-Online এ অবস্থিত বিভিন্ন tools (calculators, interactive content ইত্যাদি)

-বিভিন্ন জিনিসের (Review)

-Social media page বা Social media channels (Facebook, LinkedIn, Twitter, Instagram ইত্যাদি)

-অধিকাংশ digital marketing asset গুলি এর অন্তর ভুক্ত , কিন্তু তীক্ষ্ণ বুদ্ধি সম্পন্ন marketer রা customer দের কাছে পৌঁছনর জন্য প্রতিনিয়ত নতুন নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করছে।

সর্বশেষে বলতে চাই, ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে রাখাটা এখন সময়ের দাবী। আপনি যদি ধৈর্য্য এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে নিতে পারেন তাহলে ধরে নিবেন আপনি ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত। তবে ব্যাপারটা বলা যত সহজ করাটা ঠিক তার থেকে কয়েকগুণ বেশি কঠিন।

Facebook Comments