ঢাকাসোমবার , ১০ আগস্ট ২০২০
  1. ইসলাম
  2. ছোট গল্প
  3. বই
  4. বিজ্ঞান-ও-প্রযুক্তি
  5. বিনোদন
  6. বিশ্বকোষ
  7. ব্যবসা
  8. ভিডিও
  9. ভ্রমণ
  10. মার্কেটিং
  11. মোটিভেশনাল স্পিচ
  12. স্বাস্থ্য বিষয়ক
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফেসবুক-অ্যামাজনকে ছাড়িয়ে শীর্ষে ‘পাঠাও’

প্রতিবেদক
dipu
আগস্ট ১০, ২০২০ ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

শাহনূর শাহীনঃ

খবরটি চমকে ওঠার মতই। ফেসবুক অ্যামাজনকে ছাড়িয়ে শীর্ষে ‘পাঠাও’। একেবারে জিরো থেকে হিরো। স্বপ্ন যেখানে বাস্তব। ২০১৬ সালের নভেম্বরে যাত্রা শুরু করে অ্যাপ ভিত্তিক রাইড শেয়ারিং কোম্পানি পাঠাও। এখনো তিন বছর পূর্ণ  হয়নি। এরই মধ্যে প্রথম তিন বছরের আয়ের দিক থেকে ছাড়িয়ে গেছে ফেসবুক অ্যামাজনের মত বিশ্ব বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানকে।

২০১৭ সালের ডিসেম্বরের হিসাব অনুযায়ী প্রতিমাসে ফেসুবকের আয় ১৫৬ কোটি মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১২ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা। মাসে হাজার কোটি টাকা তাও দশেকের ঘর ছাড়িয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠান ফেসবুকও শুরুর দিকে এতটা সফলতা অর্জন করতে পারেনি যেটা করেছে বাংলাদেশের তিন তরুণের অ্যাপ ভিত্তিক রাইড শেয়ারিং কোম্পানি ‘পাঠাও’। মাত্র তিন বছরে পথচলায় ‘পাঠাও’র আয় তথা মূলধন হয়েছে ৮২০ কোটি টাকা। প্রথম তিন বছরে বিশ্ব বিখ্যাত কোম্পানি অ্যামাজনও এত টাকা আয় করতে পারেনি।

সফলতার ধারাবাহিকতায় দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও শুরু হতে যাচ্ছে পাঠাওয়ের পথচলা। আগামী অক্টবরের প্রথম সপ্তাহে প্রতিবেশি দেশ নেপালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে ‘পাঠাও’ সার্ভিস। পাঠাওয়ের প্রধান নির্বাহী হুসেইন এম ইলিয়াম জানালেন, এরই মধ্যে নেপালের রাজধানী কাঠমুন্ডুতে পাঠাওয়ের কার্যালয় স্থাপনের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। শুরু হয়েছে বাইক নিবন্ধনের কাজও।

পাঠাওয়ের এমন সফলতায় বিনিয়োগে হাত বাড়িয়েছে বিশ্ব বিখ্যাত বিভিন্ন কোম্পানি। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার গো-জেক কোম্পানি থেকে বিনিয়োগ এসেছে ২০ লাখ ডলার। প্রযুক্তিবিষয়ক আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন টেকেরাজের তথ্যমতে, সব মিলিয়ে ১ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে ‘পাঠাও’। যার বর্তমান বাজার মূল্য দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ১০ কোটি ডলার।

পাঠাও কোম্পানির পথচলার গল্পটা শুনলে আরো বেশি অবাক হতে হবে। পড়াশুনা শেষ করে চাকরি খুঁজতে না গিয়ে নিজেরা কিছু করার চিন্তা থেকে ‘পাঠাও’ রাইড শুরু করে তিন যুবক। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিংয়ে এমবিএ শেষ করা হুসেইন এম ইলিয়াস, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি  বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক পড়ুয়া সিফাত আদনান এবং কানাডায় পড়াশুনা করা কিশোয়ার হাশমী।  মূলধন বলতে তখন মাত্র তিনজনের তিনটি বাই সাইকেল। বাইসাইকেল করে পণ্য ডেলিভারির দেয়ার কাজ শুরু করে ২০১৫ সালে। যানজটের নগরী ঢাকায় যাত্রা সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে শুরু করা হয় মটর সাইকেল রাইড শেয়ারিং। এর জন্য ২০১৬ সালে দেশিয় ডেভেলরাপর দিয়ে তৈরি করা হয় ‘পাঠাও’ অ্যাপ। ১৬ সালের নভেম্বরে শুরু হয় এই সেবা। রাইড শেয়ারিংয়ে এরপর যোগ হয় কার।

কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করতে থাকে ‘পাঠাও’ রাইড। গন্তব্যে পৌঁছার জন্য অপেক্ষা করতে হয় না বাস বা অন্য কোনো যানবাহনের জন্য। পৌঁছার পর পোহাতে হয় না ভাড়া নিয়ে কোনো বাড়তি জামেলাও। হাতে একটি স্মার্টফোন আর তাতে পাঠাও অ্যাপস ইনস্টল থাকলেই দ্রুত পৌঁছে যাওয়া যায় নির্দিষ্ট গন্তব্যে। যাত্রীরা নিজের স্মার্টফোন থেকে পাঠাও অ্যাপস চালু করে গন্তব্যস্থল এন্ট্রি করলেই আশপাশে ‘পাঠাও’ নিবন্ধিত রাইড শেয়ারিং বাইক দেখতে পায়। গন্তব্যে পৌঁছতে কত টাকা ভাড়া গুনতে হবে তাও দেখতে পায় যাত্রীরা নিজের মোবাইলে। এরপর নিজের ইচ্ছে মত সবচে কাছের রাইডারকে রিকোয়েস্ট পাঠানোর কয়েক মিনিটের মধ্যেই বাইক নিয়ে চলে আসে চালক।

সহজ, নিরাপদ এবং জামেলহীন হওয়ায় দ্রুতই জনপ্রিয়তা পেতে থাকে ‘পাঠাও’ রাইড। রাইড সেবা পৌঁছে যায় সিলেট এবং চট্রগ্রাম নগরীতে। ঢাকা, চট্রগ্রাম এবং সিলেট নগনরীতে কার, মটর বাইক এবং বাই সাইকেল মিলিয়ে পাঠাও নিবন্ধিত বাহনের সংখ্যা এখন ৫০ হাজার। প্রতিদিন পাঠাও সেবা নেয় প্রায় ১ লক্ষ মানুষ। রাইড শেয়ারিংয়ের পাশাপাশি ফুড ডেলিভারিও দিচ্ছে পাঠাও। পার্সেল সার্ভিস তো আছেই। পাঠাও নির্বাহী জানালেন, স্মার্টফোন সহ ইলেক্ট্রিক বিভিন্ন পণ্য সেবাও চালু করা হবে পর্যায়ক্রমে।

চাকরির পেছনে না ছুটে  নিজেরা কিছু করার ভাবনা থেকে তিন তরুণ মিলে ‘পাঠাও’ রাইড শেয়ারিং ব্যবসা করে মাত্র তিন বছরে হয়েছেন ৮২০ কোটি টাকার মালিক। পাশাপাশি ভুমিকা রাখছেন হাজার তরুণের স্বচ্ছলতায়। সস্তা চাকরির বাজারে না ছুটে চাইলেই পাঠাও রাইডে নিজের বাইক রেজিস্ট্রেশন করে প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা আয় করতে পারেন যে কোনো বেকার যুবক। চাইলে পার্ট টাইমেও ভালো টাকা আয় করা যায় ‘পাঠাও’ রাইডে।

Facebook Comments