বিক্রি বৃদ্ধি করতে করনীয় ও বর্জনীয়

[ বড় পোস্ট নিয়ে চলে আসলাম 😊,যারা সেলস নিয়ে গতকালের পোস্টটি পড়েছেন তাদের আর পোস্টটি একবার দেখে নেয়া উচিত ]
যেহেতু সেলস বা বিক্রয় একটা পদ্ধতি এবং সঠিকভাবে এর ব্যবহার করতে পারলে, তা কাজ করতে বাধ্য। আবার সেলস যেহেতু একটা আর্ট, অনেকেই হয়ত ভাবছেন এটা হয়ত রপ্ত করা এত সহজ না। এক্ষেত্রে সফল হতে হলে অবশ্যই বেশকিছু বিষয় জেনে বুঝেই আপনাকে আগাতে হবে। তাই এই ডিজিটাল যুগে বিক্রয়ের এর নিয়ম গুলো আবার নতুন করে আপনাদের শিখে নিতে হতে পারে। যা কিনা পুরনো পদ্ধতি গুলো কে প্রতিনিয়তই পরিবর্তন করে ফেলছে। প্রতিটি উদ্যোক্তা বা বিজনেস পার্সনের বিক্রয়ের সাথে সরাসরি যোগ আছে। তাই যারা বিক্রয় পেশার সাথে আছেন তাদের অবশ্যই জানা উচিত কোন কোন প্রচলিত ভূল গুলো আপনাকে বাধাপ্রাপ্ত করবে একজন সফল বিক্রয়কর্মী বা উদ্যোক্তা হতে। তাই সচেতন ভাবে সেই ভূল গুলো এড়িয়ে চলা উচিত। তাহলে চলুন জানা যাক – 👇
গ্রাহক যা আশা করে তা করা থেকে বিরত থাকুন
নিশ্চয়ই ভাবছেন, এ কেমন কথা ? তাহলে চলুন আসল কারন জানা যাক। আপনি নিজেকে একবার গ্রাহকের জায়গায় কল্পনা করেন। দেখবেন যে আপনি যতজন বিক্রয়কর্মীর সাথে দেখা করেছেন বা কথা বলেছেন তাদের প্রায় সবারই ব্যাবহার বা কথার ধরণ একই। তাই আপনার নিজেরও কিন্তু তাদের উপর বিরক্তি পেয়ে বসে। তাহলে ভাবছেন কি করে আপনিও একই ব্যাবহার করলে আপনার গ্রাহক বিরক্ত হবে না।
অন্য বিক্রয়কর্মীদের মতো আচরণ করা আপনার পক্ষে করা সবচেয়ে বড় বিক্রয় ভুল। আপনি যদি সফল বিক্রয়কর্মী হতে চান তাহলে আপনার সম্ভাব্য গ্রাহকের সাথে তাদের আশাতীত কাজ গুলো থেকে বিরত থাকেন। মূল কথা হল টিপিক্যাল বিক্রয়কর্মীদের মত ব্যাবহার থাকে দূরে থাকুন কারন সেগুলো গ্রাহকের চোখে কম ভ্যালু যোগ করে। এখন আমরা আর ও কিছু সেলস মিসটেক নিয়ে জানাবো যা আপনার বাদ দেয়া উচিত ।
মুখস্ত বুলি আওড়ানো থেকে বিরত থাকুন
আমরা সবাই একই রকম ভুল করি সেটা হোক অফলাইন বা অনলাইন । যেমন সম্ভাব্য গ্রাহকের সামনে বা ফোনালাপে আমাদের সার্ভিস বা প্রডাক্ট নিয়ে মুখস্ত বুলি আওড়াতে থাকি, মানে বিজ্ঞাপন দিতে থাকি। এটা সফল ভাবে বিক্রয় সম্পন্ন করতে বাঁধাগ্রস্ত করে। কারন যখন আপনি নিজেই কারো কাছে তার পণ্যের বিজ্ঞাপন মূলক কথা শুনবেন তখন আপনি তার বা তার পণ্যের উপর ভরসা করতে পারবেন না। আপনার কাছেই মনে হবে যে আপনাকে পণ্যটা গছিয়ে দিতে চাচ্ছে। তাই আপনিও একজন বিক্রয়কর্মী হিসেবে এই বিষয়টি সচেতন ভাবে এড়িয়ে চলুন। গ্রাহকের চিন্তা বা মানসিকতা বোঝার চেষ্টা করুন সময় নিয়ে। তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার পণ্যের জন্য সে সম্ভাব্য গ্রাহক কিনা।
গ্রাহকের সাথে একনাগাড়ে ৬০ সেকেন্ডের বেশি কথা বলবেন না
বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এটা সর্বাধিক ভূল। আমরা সাধারনত দেখি বিক্রয়কর্মীরা গ্রাহকের সাথে কথা বলার সময় একনাগাড়ে কথা বলতে থাকে। কিন্তু তথ্য থেকে জানা যায় ৬০ সেকেন্ড পরে শ্রোতার বক্তার কথার প্রতি মনোযোগ থাকে না। এবং তথ্য থেকে এটাও জানা যায় সফল বিক্রয়কর্মীরা তাদের গ্রাহকের সাথে একনাগাড়ে ৭২ সেকেন্ডের বেশি কথা চালাচালি করে না। তাই আপনি ৬০ সেকেন্ড মেথডকে অবশ্যই ফলো করবেন এক্ষেত্রে। তাই গ্রাহককে আপনার সাথে এনগেইজ করার জন্য একনাগাড়ে কথা না বলে বিরতি নিয়ে বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলোকে ভেঙ্গে ভেঙ্গে বলেন এবং প্রশ্ন করেন। এতে সে বেশি এনগেইজ হবে আপনার সাথে ।
এক্সসাইটমেন্ট নয় আন্তরিকতা দেখান
ট্রেডিশনাল মার্কেটে বিক্রেতারা সম্ভাব্য ক্রেতাদের সামনে তাদের পণ্য নিয়ে প্রচুর এক্সসাইটমেন্ট দেখায়। যেটা বেশিরভাগ সময় ক্রেতার কাছে বিরক্তিকর বিষয় হয়ে দাড়ায়। তাই আপনার অবশ্যই ট্রেডিশনাল বিক্রেতাদের মত আচরন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। তাই বলে কি আপনি সম্ভাব্য গ্রাহককে আপনার পণ্যের ব্যাপারে জানাবেন না? অবশ্যই জানাবেন তবে গতানুগতিক নিয়মে নয়, আপনার মত করে। যেমন- “আমাদের শাড়ি গুলো অনেক ভালো, এই মূল্যে আপনি অন্য কারো কাছে পাবেন না। একটা শাড়ি নিয়েই দেখেন” এসব না বলে গ্রাহককে আপনার পণ্যের গুনাগুণ গুলো ধীরে সুস্থ্যে জানান এবং অবশ্যই খেয়াল রাখুন সে কি জানতে চাচ্ছে বা কি ধরনের পণ্যের আপডেট চাচ্ছে। মূলকথা আপনার গ্রাহকের সামনে একজন বিক্রেতার মত নয়, আপনার মত করে নিজেকে তুলে ধরুন।
গ্রাহককে পারসুয়েড করা থেকে বিরত থাকুন
অনেকের কাছেই মনে হয় বিক্রয় প্ররোচনার অংশ। কিন্তু এই ভাবনা থেকে বিরত থাকাই ভালো। গ্রাহককে আপনার পণ্যের ব্যাপারে জানাবেন, বোঝাবেন কিন্তু প্ররোচিত করা যাবে না। প্ররোচিত করে একবার বিক্রয় করতে পারলেও সে কখনোই রিটার্ন গ্রাহক হবে না। তাই গ্রাহককে বোঝানোর সময় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন তার সম্ভাব্য প্রয়োজন গুলো আপনার দেয়া অফারের সাথে সামঞ্জস্য কিনা।
 বিক্রয় আপনার জন্য অপরিহার্য এটা বোঝানো যাবে না
গ্রাহকের সামনে বোঝানো যাবে না যে আপনার বিক্রয়টি খুবই প্রয়োজনীয়। কিন্তু হরহামেশা এই ভূলটা অনেক বিক্রয়কর্মীকে করতে দেখা যায়। এই ভুলের কারনে আপনার বিক্রয় অসম্পূর্ণ হতে পারে। কারন যখন আপনি গ্রাহককে বোঝাবেন যে আপনার জন্য বিক্রয়টি খুবই প্রয়োজনীয় তখন তার কাছে আপনার এবং আপনার পণ্যের মূল্য কমে যেতে পারে। তাই পণ্যের গুনাগুন যথাযথ ঠিক রেখে এবং আত্ববিশ্বাসের সাথে নিজেকে গ্রাহকের সামনে তুলে ধরুন।
পরিশেষে বলবো, একদিনে এতগুলো ভূল শোধরাতে হয়তো পারবেন না। এর জন্য দরকার মনোযোগ, শ্রম, চেষ্টা এবং অধ্যাবসায়, যে কথা রাজীব স্যার আমাদের সবসময় বলে থাকে । তাই আজই শুরু করুন, কালকে নয়। সফলতা আসবেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *