ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৫ আগস্ট ২০২১
  1. ইসলাম
  2. ছোট গল্প
  3. বই
  4. বিজ্ঞান-ও-প্রযুক্তি
  5. বিনোদন
  6. বিশ্বকোষ
  7. ব্যবসা
  8. ভিডিও
  9. ভ্রমণ
  10. মার্কেটিং
  11. মোটিভেশনাল স্পিচ
  12. স্বাস্থ্য বিষয়ক
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মায়োপিয়া(Myopia) বা দৃষ্টিক্ষীণতা কি | বাঁচার উপায়

প্রতিবেদক
Yeasin Ahmad
আগস্ট ৫, ২০২১ ৮:৪৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মায়োপিয়া(Myopia) বা দৃষ্টিক্ষীণতা কি? দৃষ্টিক্ষীণতা (কাছের জিনিস দৃশ্যমান) এমন একটি অবস্থা যার ফলে আপনি কাছের বস্তু স্পষ্ট দেখতে পাবেন, কিন্তু দুরের দৃষ্টি হবে অস্পষ্ট। আপনার টেলিভিশন পর্দা, হোয়াইটবোর্ড ইত্যাদি জিনিষগুলো দেখতে অসুবিধা হতে পারে। আমাদের চোখ ভালো রাখার জন্য কাছের এবং দূরের দুইটি দৃষ্টিই জরুরি। কিন্তু বর্তমানে বেশিরভাগ সময় মানুষ ট্যাবলেট, ল্যাপটপ, মোবাইল স্ক্রিনের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। চোখ দূরে তাকাচ্ছে না ফলে দিন দিন কমছে দূর দৃষ্টির কার্যক্ষমতা

কোয়ারান্টিন জরিপে মায়োপিয়াঃ

‘নেচার’ পত্রিকায় প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে সারা বিশ্বে শিশুদের মধ্যে চোখের সমস্যা বাড়ছে৷ বিশেষত দূরের জিনিস দেখার ক্ষেত্রে সমস্যা বেশি নজরে আসছে৷ ডাক্তারি ভাষায় ওই রোগকে ‘মায়োপিয়া’ বলা হয়৷ পূর্ব এশিয়াতে আগামী দু-দশকের মধ্যে তা মহামারীর আকার নেবে বলেই উল্লেখ করা হয়েছে ওই পত্রিকায়৷ পত্রিকার দাবি, পূর্ব এশিয়াতেই এমন শিশুর সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে৷ হংকং, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর, সাউথ কোরিয়া-সহ চিনের মতো দেশে ‘মায়োপিয়া’ আক্রান্ত শিশুদের তথ্য আছে৷ তবে, গবেষণায় ভারতের উল্লেখ না থাকলেও, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য বলছে সারা দেশে বিগত তিন বছর ক্রমশ চোখের সমস্যা যুক্ত শিশুদের সংখ্যাও বেড়েছে৷ গত তিন বছরে রাজ্যে চোখের সমস্যা রয়েছে এমন শিশুর সংখ্যা বেড়েছে কমপক্ষে ২০ হাজার করে৷

সম্প্রতি নেদারল্যান্ডস এবং চীনের একটি জরিপে জানা গেছে, লকডাউনে চোখের সমস্যা কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে, ছোটদের চোখে এই সমস্যা সবচেয়ে মারাত্মক। চিকিৎসকরা এর নাম দিয়েছেন ‘কোয়ারান্টিন মায়োপিয়া।’ এছাড়াও পড়াশোনার সঙ্গে মায়োপিয়ার সরাসরি যোগ আছে। যারা বেশি পড়াশোনা করেছেন, তাদের মায়োপিয়ার প্রবণতাও বেশি৷

চীনে এক লাখ ২০ হাজার স্কুল পড়ুয়া শিশুদের ওপর পরীক্ষা করে জানা গেছে, ছয় থেকে আট বছরের শিশুদের মধ্যে মায়োপিয়া হওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। এছাড়াও ২০১৯ এর তুলনায় ২০২০ সালে এই বয়সের শিশুদের চোখে মায়োপিয়া বৃদ্ধি পেয়েছে তিন গুণ।
চিকিৎসকরা বলছেন, গত প্রায় এক বছরে শিশুরা বাড়িতে বসে থেকেছে। সারাক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থেকেছে। দূরের জিনিস দেখেনি৷ ফলে তাদের দূরের দৃষ্টিশক্তি ঠিকমতো তৈরিই হচ্ছে না। আট বছর পর্যন্ত শিশুদের চোখের গঠনগত পরিবর্তন হতে থাকে। ফলে এই বয়সের শিশুরা দূরের জিনিস না দেখতে দেখতে, দূরের দৃষ্টিশক্তিই হারিয়ে ফেলছে। বড় হওয়ার পরেও তাদের এই সমস্যা কাটবে না।

ছয় থেকে আট বছরের মধ্যে আইবল যদি খুব বড় হয়ে যায়, তাহলে দূরের দৃষ্টির ক্ষমতা একেবারে কমে যায়। খুব ফোকাস করে কাছের জিনিস দেখলে আইবল বড় হয়। এর থেকে রেটিনার সমস্যা হতে পারে। এমনকী বাড়ন্ত বয়সে অন্ধত্বও হতে পারে।

এদিকে, ব্রিয়ান হোলডেন ভিশন ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, একুশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে পৌঁছে, বিশ্বের পাঁচ বিলিয়ন মানুষ অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক মানুষ দূরের জিনিস দেখতে পাওয়ার সমস্যায় ভুগবে।

“মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অপথালমোলজির ডিরেক্টর নিকোলও এমনই জানিয়েছেন৷ তিনি বলেন, ‘এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো খুব ছোট বয়স থেকে কম্পিউটার কিংবা মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা৷ প্রকৃতি ও পরিবারের সাথে সময় কাটানো এমনিই কমে গিয়েছে৷ তাই মাঠে গিয়ে সুদূরের দিকে তাকিয়ে থাকার অভ্যাস এখন আর নেই বললেই চলে৷”

মায়োপিয়ার কেন হয়ঃ
মায়োপিয়ায় আমাদের চোখে আলোর রশ্মিগুলো রেটিনার ওপর ফোকাসড না হয়ে রেটিনার সামনে ফোকাসড হয়। এটা দুটো কারণে হতে পারে, আই বলটা যদি নর্মাল সাইজের থেকে বড় হয় অথবা চোখের যে লেন্স আছে সেই লেন্সটা যদি নর্মালের থেকে মোটা বা স্ট্রং হয়। দুটো ক্ষেত্রেই স্ট্রং লেন্স হলেও ফোকাসটা সামনে হয়ে যাচ্ছে, আইবলটার বড় লেন্স নর্মাল হলেও চোখের সামনে আলোর রশ্মিগুলো ফোকাস হয়ে যাচ্ছে। এইসব ক্ষেত্রে চশমা বা কন্ট্যাক্ট লেন্সের সাহায্যে রেটিনার ওপর আলোর রশ্মিগুলো ফোকাস করলে তবেই ভালো করে দেখা সম্ভব।

মায়োপিয়ার পিছনে অনেক সময় হেরিডিটি কাজ করে। বাবা-মা’র যদি মাইনাস পাওয়ার থাকে তাহলে তাদের বাচ্চাদেরও মাইনাস পাওয়ার হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কিংবা দাদা বা ভাইয়ের মাইনাস পাওয়ার থাকলে বোনোরও মাইনাস পাওয়ার হবার সম্ভাবনা থাকে। এই হেরিডেটারি ফ্যাক্টর ছাড়াও একটা সোসিও ইকোনমিক ফ্যাক্টর দেখা যায়। যারা বেশিক্ষণ ঘরের মধ্যে কাটায় বা যারা বেশিক্ষণ ক্লোজ ওয়ার্ক করে বা হায়ার সোসিও ইকোনমিক গ্রুপে মায়োপিয়া হবার সম্ভাবনা বেশি দেখা যায়।

এদের প্রধান সমস্যা হল দূরে দেখার অসুবিধে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করতে না পারলে লেজি আই হবার সম্ভাবনা দেখা যায়। একবার লেজি আই হলে পরে চশমা দিয়েও দৃষ্টিতে উন্নত করা যায় না।

কিভাবে মায়োপিয়ার হাত থেকে নিজেদের বাঁচাতে পারি:

যে কোনো কাজ করার সময় মাঝে মাঝেই একটু দূরের দিকে তাকানো। এটা অভ্যাস করে ফেলতে হবে। খুব মন দিয়ে মোবাইল বা ট্যাবলেটে কাজ করার সময়ও মাঝে মাঝেই দূরের দিকে তাকাতে হবে।

সূর্যের আলোও খুব জরুরি। দিনের কিছুটা বাইরে কাটাতেই হবে। সূর্যের আলো আইবলের গ্রোথ ভালো করে। স্ক্যানডেনেভিয়ার একটি সমীক্ষা বলছে, অন্ধকার মরসুমে মায়োপিয়া বাড়ে। আলো থাকলে মায়োপিয়ার সমস্যা অনেক কমে যায়।

স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে শুধুমাত্র মায়োপিয়ার সমস্যাই হয় না। এর ফলে শিশুদের চোখের জল শুকিয়ে যেতে থাকে। যাকে ‘ড্রাই আই’ বলা হয়। চোখকে ক্লান্ত করে দেয় স্ক্রিন। স্মার্টফোনের নীল আলোর দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকলে ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটতে পারে। ইদানীং অবশ্য বহু স্মার্টফোনই ব্লু লাইট রিডাকশনের ব্যবস্থা থাকে। নাইট মোড থাকে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ঘুমের অন্তত দুই ঘণ্টা আগে ফোন বন্ধ করে দেওয়া উচিত।

প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় এই ধরনের সমস্যা ক্রমশ বাড়তে শুরু করে। হংকং, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ যুবক এই রোগে ভুগছেন। চীনের ৮০ শতাংশ মানুষ দূরের জিনিস ঠিকমতো দেখতে পান না। ইউরোপে অর্ধেক মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত।

সূত্র: ডয়চে ভেলে

Facebook Comments