ঢাকাবুধবার , ২৫ আগস্ট ২০২১
  1. ইসলাম
  2. ছোট গল্প
  3. বই
  4. বিজ্ঞান-ও-প্রযুক্তি
  5. বিনোদন
  6. বিশ্বকোষ
  7. ব্যবসা
  8. ভিডিও
  9. ভ্রমণ
  10. মার্কেটিং
  11. মোটিভেশনাল স্পিচ
  12. স্বাস্থ্য বিষয়ক
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সজিনা (মরিঙ্গা পাউডার) পাতার অত্যাশ্চর্য ১০টি উপকারিতা

প্রতিবেদক
Yeasin Ahmad
আগস্ট ২৫, ২০২১ ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আমাদের আশে পাশে অনেক জিনিস আছে যার গুনাগুণ সম্পর্কে আমাদের তেমন একটা ধারণা নাই। এরই মধ্যে একটি হলো সজনে পাতা। সজনে ডাটার গুনাগুণ সম্পর্কে কম বেশি সবাই জানলেও, সজনে পাতা সম্পর্কে জানেন না অনেকেই। আমরা অনেকেই সজনে খাই সবজি হিসেবে। কিন্তু এখনো অনেকেই জানেন না যে, সজনের সাথে সাথে সজনে পাতাও খাওয়া যায়। সেই এই সজনে পাতার আছে বহু রকমের ব্যবহার।

সজনের ডাঁটা ও পাতা খুবই পুষ্টিকর ও সুস্বাদু একটি খাবার। একে পৃথিবীর সবচেয়ে পুষ্টিকর হার্ব বলা হয়। সজনেডাঁটার বৈজ্ঞানিক নাম ‘মোরিঙ্গা ওলেইফেরা’। পুষ্টিগুণ বিবেচনা করে সজনে পাতাকে ‘অলৌকিক পাতা’ বলা হয়ে থাকে। এ ছাড়া একে ‘নিউট্রিশন সুপার ফুড’ও বলা হয়। আবার অনেক গবেষকেরা একে ‘পুষ্টির ডিনামাইট’ও বলেছেন।

এ গাছটি থেকে পুষ্টি, ঔষধি গুণ ও সারা বছর ফলন পাওয়া যায় বিধায় বাড়ির আঙিনায় এটি একটি মাল্টিভিটামিন বৃক্ষ এর পুষ্টিগুণ খাদ্যোপযোগী প্রতি ১০০ গ্রামে খাদ্য শক্তি কি. ক্যাল ৪৩, আমিষ ২.৯ (গ্রাম), ভিটা-এ ২৬ (মি. গ্রাম), পানি ৮৫.২ গ্রাম, চর্বি ০.২ (গ্রাম), জিংক ০.১৬ (মি. গ্রাম), শর্করা ৫.১ (গ্রাম), খাদ্য আঁশ ৪.৮ (গ্রাম), ক্যালসিয়াম ২৪ (মি. গ্রাম), আয়রন ০.২ (মি. গ্রাম), ভিটা-বি১ ০.০৪ (মি. গ্রাম), ভিটা-এ ২৬ (মি. গ্রাম), ভিটা-বি২ (মি. গ্রাম) ০.০৪ ভিটামিন-সি ৬৯.৯ (মি. গ্রাম)।

অলৌকিক সজনে পাতার উপকারিতা:

১. তিন গ্রাম সজনে পাতায় একটি কমলার চেয়ে সাতগুণ বেশি ভিটামিন সি, দুধের চেয়ে চার গুণ বেশি ক্যালসিয়াম ও দুই গুণ বেশি প্রোটিন, গাজরের চেয়ে চার গুণবেশি ভিটামিন এ এবং কলার চেয়ে তিন গুণ বেশি পটাশিয়াম বিদ্যমান। ফলে এটি অন্ধত্ব, রক্তস্বল্পতা সহ বিভিন্ন ভিটামিন ঘাটতিজনিত রোগের বিরুদ্ধে বিশেষ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।

২. এতে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক থাকে এবং পালংশাকের চেয়ে তিনগুণ বেশি আয়রন বিদ্যমান, যা এ্যানেমিয়া দূরীকরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
সজনে শরীরে কোলেস্টেরল এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে অন্যতম অবদান রাখে।

৩.মানুষের শরীরের প্রায় ২০% প্রোটিন যার গাঠনিক একক হলো এমাইনো এসিড। শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মেটাবোলিজম এবং অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলী পরিপূর্ণরূপে সম্পাদনে এমাইনো এসিড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। মানুষের শরীরের যে ৯ টি এমাইনো এসিড খাদ্যের মাধ্যমে সরবরাহ করতে হয়, তার সবগুলোই এই মরিঙ্গার মধ্যে বিদ্যমান।

৪. এটি শরীরে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ডায়াবেটিসের মত কঠিন রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে।

৫. নিয়মিত দৈনিক সেবন শরীরের ডিফেন্স মেকানিজমকে আরো শক্তিশালী করে এবং ‘ইমিউনিটি স্টিমুল্যান্ট’ (Immunity Stimulant) হওয়ার দরুন এটি ‘এইডস’ আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

Effort BD

৬. এটি শরীরের হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে পুষ্টিবর্ধক হিসেবে কাজ করে।

৭.শরীরের ওজন কমাতেও ব্যায়ামের পাশাপাশি এটি বেশ কার্যকরী ভুমিকা পালন করে থাকে।

৮.এটি মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই। পাতা থেকে তৈরি এক টেবিল চামচ পাউডারে ১৪% প্রোটিন, ৪০% ক্যালসিয়াম, ২৩% আয়রণ বিদ্যমান, যা ১ থেকে তিন বছরের শিশুর সুষ্ঠু বিকাশে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় এবং বুকের দুধ খাওয়ানোকালীন সময়ে ৬ টেবিল চামচ পাউডার একজন মায়ের প্রতিদিনের আয়রণ এবং ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করে থাকে।

৯. এটির এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এটি যকৃত ও কিডনী সুস্থ্য রাখতে এবং রূপের সৌন্দর্যবর্ধক হিসেবেও কাজ করে থাকে।
সজনে-তে প্রায় ৯০টিরও বেশি এবং ৪৬ রকমের এন্টি-অক্সিডেন্ট বিদ্যমান।

১০. এতে ৩৬ টির মত এন্টি-ইনফ্ল্যামমেটরি বৈশিষ্ট্য আছে। এছাড়াও এটি অকাল বার্ধক্যজনিত সমস্যা দূর করে এবং ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

উপসংহারঃ
করোনা মহামারির আতঙ্কে কাঁপছে সারাবিশ্ব। বাংলাদেশও বাদ নেই। সারাদেশে চলছে কঠোর লকডাউন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত সচেতনতা বাড়িয়ে তোলার পাশাপাশি প্রয়োজন শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এ সময় খাবার তালিকা পরিবর্তন করে পুষ্টিকর খাবারকে প্রাধান্য দিতে হবে। এক্ষেত্রে সজনে পাতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সজনে গাছের পাতা পৃথিবীর সবচেয়ে পুষ্টিকর হার্ব। গবেষকরা সজনে পাতাকে বলে থাকেন, নিউট্রিশন্স সুপার ফুড এবং সজনে গাছকে বলা হয় মিরাক্কেল ট্রি। এটি শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে শরীরকে করে পূর্বের থেকেও বেশি স্বাস্থ্যকর। এই পাতার নানা গুণাগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। লেবু থেকে সাত গুন বেশি ভিটামিন-সি রয়েছে এতে। যা আমাদের দেহের ভিটামিন-সির চাহিদা পূরণে সক্ষম। আর করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খাওয়া উচিত। সজনে পাতায় ডিম থেকে প্রায় দুই গুন বেশি প্রোটিন রয়েছে এবং দুধের চেয়ে চার গুন বেশি ক্যালসিয়াম আছে। যা মানবদেহের জন্য খুব উপকারী। অন্ধত্ব দূর করতেও সজনে ডাটা ব্যাপক কার্যকারী, কারণ এতে আছে গাজর থেকেও চার গুন বেশি ভিটামিন-এ। তাই যারা অন্ধত্ব সমস্যায় ভুগে তারা সজনে পাতা খেলে উপকার পাবেন।

তাহলে আর দেরী কেন আদরে-অনাদরে বেড়ে ওঠা এই সজিনার পাতা আজ থেকে খাওয়া শুরু হয়ে যাক।

Facebook Comments