ঢাকাসোমবার , ২৭ এপ্রিল ২০২০
  1. ইসলাম
  2. ছোট গল্প
  3. বই
  4. বিজ্ঞান-ও-প্রযুক্তি
  5. বিনোদন
  6. বিশ্বকোষ
  7. ব্যবসা
  8. ভিডিও
  9. ভ্রমণ
  10. মার্কেটিং
  11. মোটিভেশনাল স্পিচ
  12. স্বাস্থ্য বিষয়ক
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সেইন্ট মার্টিন: সাগরে এক টুকরো বাংলাদেশ

প্রতিবেদক
dipu
এপ্রিল ২৭, ২০২০ ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আয়শা সিদ্দিকা হুমায়রা শহুরে কোলাহল ছেড়ে নির্জনতায় প্রকৃতির সাথে কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে চলে যেতে পারেন বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের দ্বীপটিতে। বঙ্গোপসাগরের উত্তর পূর্বাংশে, নাফ নদীর মোহনায় ৮ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে আছে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এ দ্বীপটি। যার স্থানীয় নাম নারিকেল জিঞ্জিরা হলেও বিশ্বব্যাপী সাধু মার্টিনের দ্বীপ বা সেইন্ট মার্টিন’স আইল্যান্ড নামে পরিচিত। এখানে প্রচুর নারিকেল গাছ থাকায় এমন নামকরণ করা হয়েছে বলা হয়ে থাকে।

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ হওয়ায় ভ্রমণপিয়াসীদের মনে করে নিয়েছে বিশেষ স্থান। তবে শুধু সমুদ্র দেখার উদ্দেশ্যে সেইন্ট মার্টিন দ্বীপে ভ্রমণ করা নিছকই বোকামি হবে। দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে টেকনাফ এবং টেকনাফ থেকে জাহাজে, ট্রলারে বা স্পীডবোটে যাওয়া যাবে কাঙ্ক্ষিত সেইন্ট মার্টিন দ্বীপে। নভেম্বরের শেষ থেকে মার্চ পর্যন্ত জাহাজ চালু থাকে। অন্যসময় যেতে চাইলে ট্রলার কিংবা স্পীডবোটই ভরসা! জাহাজ চলাকালীন পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকে নারিকেন জিঞ্জিরা, তবে অন্যসময় পর্যটকদের আনাগোনা কম থাকায় নির্জনতা বেশি উপভোগ্য হয়ে ওঠে এবং ব্যয়ও তুলনামূলক কমে আসে।ট্রলারে বা জাহাজে নদী পেরিয়ে সমুদ্র যত গভীর হবে এর স্বচ্ছ নীলাভ সৌন্দর্য ততই বিমোহিত করবে।

যেতে যেতে চোখে পড়বে পাহাড়, বড় বড় গাছপালা এবং সমুদ্রতীরে গড়ে ওঠা জেলেপল্লী। চাইলে দ্বীপে এক রাত বা তার বেশি অবস্থান করা যাবে আবার দিনে দিনেও ফিরে আসা যাবে। তবে এখানকার রাতের সৌন্দর্য উপভোগ না করতে পারলে সেইন্ট মার্টিন দ্বীপের আসল রূপ অদেখাই থেকে যাবে। পশ্চিম বীচ অথবা ছেড়া দ্বীপে গিয়েও উপভোগ করতে পারবেন সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য এবং সকালে জেটিতে দাঁড়িয়ে সূর্যের পুনঃ আগমন। রাতের আকাশের স্নিগ্ধতা আর ঝিরিঝিরি বাতাস হৃদয়কে দোলা দিয়ে যাবে। জেটিতে বসে দেখা যাবে পরিষ্কার আকাশে অসংখ্য তারার ঝিকিমিকি।

একটু পরেই চাঁদ মামা চারিদিক আলো করে ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করবেন,ছড়িয়ে দিবেন তার অপার্থিব সৌন্দর্য। যা কবি মন পূর্ণ করে দিবে কবিতার খোরাকে। আর কবি না হলেও আপনার হৃদয় আন্দোলিত হয়ে উঠবে আবার পরক্ষণেই ডুবে যাবে হতাশায়।উপকূলে আছড়ে পড়া ঢেউয়ের শব্দ মুহূর্তে খান খান করে দিবে সমস্ত নিরবতা।

এছাড়া সাইকেলে বা পায়ে হেটেও পুরো দ্বীপ ঘুরে দেখা যায়। স্থানীয় সহজ-সরল,অতিথিপরায়ণ মানুষের জীবনযাত্রার সাথেও পরিচিত হতে পারেন। অফ সিজনে খাওয়া-দাওয়ার জন্য স্থানীয় হোটেলই ভরসা তবে খাবারের মান খুব বেশি ভাল না এবং দামও মাত্রাতিরিক্ত। অবস্থানের জন্য রয়েছে ডাকবাংলো সহ আরো কিছু হোটেল। ভ্রমণ করুন, নিজের দেশকে জানুন, সর্বোপরি নিজেকে জানুন।

মনে রাখবেন এই দেশ আমাদের তাই পর্যটনস্থানসহ সমগ্র দেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও আমাদের। আপাতত ঘরে থাকুন, সাবধানতা অবলম্বন করুন। কোভিড ১৯ মহামারী থেকে বাঁচতে নিজে সচেতন থাকুন এবং পরিবারকেও উৎসাহ দিন।

Facebook Comments