ঢাকাসোমবার , ১০ আগস্ট ২০২০
  1. ইসলাম
  2. ছোট গল্প
  3. বই
  4. বিজ্ঞান-ও-প্রযুক্তি
  5. বিনোদন
  6. বিশ্বকোষ
  7. ব্যবসা
  8. ভিডিও
  9. ভ্রমণ
  10. মার্কেটিং
  11. মোটিভেশনাল স্পিচ
  12. স্বাস্থ্য বিষয়ক
আজকের সর্বশেষ সবখবর

স্তন ক্যান্সার কী? লক্ষণ, কারণ ও করণীয়

প্রতিবেদক
dipu
আগস্ট ১০, ২০২০ ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

শাহনূর শাহীন:

স্তন ক্যান্সার বর্তমান সময়ে নারীদের জন্য ভয়ঙ্কর এক আতঙ্কের নাম।  বর্তমান বিশ্বে স্তন ক্যান্সারে নারীদের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। পঞ্চাশোর্ধ নারীদের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বিশ্বব্যাপী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীদের ৮০ পার্সেন্ট নারী পঞ্চাশোর্ধ বয়সী। তবে কম বয়সী নারীদেরও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এজন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, ৫০ থেকে ৭০ বছর বয়সী নারীদের অন্তত প্রতি তিনবছর অন্তর ব্রেস্ট স্ক্রিনিং বা ম্যামোগ্রাম পরীক্ষা করানো উচিত। ম্যামোগ্রাম হচ্ছে এক্স-রে’র মাধ্যমে নারীদের স্তনের অবস্থা পরীক্ষা করা।

সাধারণত প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার এতো ছোট থাকে যে বাইরে থেকে সেটা বোঝা সম্ভব হয় না। কিন্তু ম্যামোগ্রামের মাধ্যমে একেবারে প্রাথমিক পর্যায়েই ক্যান্সার নির্ণয় করা সম্ভব। আর প্রাথমিক পর্যায়ে এটি ধরা পড়লে ক্যান্সার থেকে সুস্থ্য হয়ে ওঠার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। আর এই পরীক্ষার জন্য সময় লাগে মাত্র অল্প কয়েক মিনিট।

স্তন ক্যান্সার কী?

স্তন ক্যান্সার হলো নারীস্তনে চাকা সাদৃশ্য গোটা হওয়া। এর ফলে স্তনে তীব্র ব্যাথা অনুভূত হয়। স্তনবৃত্ত দিয়ে রক্ত বা পুজ বের হয়। তবে প্রাথমিকভাবে ব্যাথার অনুভূতি কম হয়। স্তনের ভিতরে শক্ত কিছু রয়েছে অনুভব করলে বুঝতে হবে স্তন ক্যান্সারের পূর্বাভাস।

এটা কেবল নারীদেরই হয় তা নয়। পুরুষেরও হতে পারে। তবে পুরুষের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা খুবই কম। যুক্তরাজ্যে স্তন ক্যান্সার নিয়ে এক প্রতিবেদনে জানা যায়, দেশটিতে প্রতিবছর ৪১ হাজার মহিলা স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। বিপরীতে মাত্র ৩০০ জন পুরুষ এই রোগে আক্রান্ত হন।

বাংলাদেশে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, দেশের ক্যান্সার আক্রান্ত নারীদের মধ্যে ২৭.৪ শতাংশ হচ্ছে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে এই সংখ্যাটা প্রতি ৯ জনের মধ্যে ১ জন। স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের গড় বয়স প্রায় ৪৩ বছর।

‘ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে  প্রতিবছর ১৪ হাজার ৮২২ জন নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। মৃত্যু বরণ করেন প্রায় ৭ হাজার ১৩৫ জন নারী। প্রতিবছর ১০ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী ‘স্তন ক্যান্সার সচেতনতা দিবস’ পালন করা হয়।

effort-bd-online-shop

কোন নারীদের ঝুঁকি বেশি?

বিবাহিত এবং পঞ্চাশোর্ধ নারীদের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। বিশ্বব্যাপী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত ৮০ ভাগ নারীর বয়স ৫০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণায় দেখা গেছে বাংলাদেশে স্তন ক্যান্সার আক্রান্ত নারীদের ৮৯ শতাংশই বিবাহিত। যাদের গড় বয়স ৪১ বছর।

যে সব নারীর মা, খালা, নানাী বা পরিবারের কারো স্তন ক্যান্সার হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। এছাড়াও বিবাহে দেরি করা, বাচ্চা নিতে দেরি করা, বাচ্চাকে বুকের দুধ পান না করানো এবং স্থুলতা বেড়ে যাওয়া নারীদের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

লক্ষণ কী?

স্তন ক্যান্সারের কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ রয়েছে। লক্ষণ দেখেই বুঝা যাবে স্তন ক্যান্সার হয়েছে কিনা। স্তন ক্যান্সারের লক্ষণসমূহ জেনে রাখা প্রত্যেক নারীর জন্য জরুরী।

লক্ষণ সমূহ:-

স্তনের কোনো অংশে চাকা অনুভব করা।
স্তনের আকার পরিবর্তন হওয়া।
স্তনবৃত্তের আকার পরিবর্তন হওয়া।
স্তনের চামড়ায় ভাঁজ পড়া বা কুঁচকে যাওয়া।
স্তনবৃত্ত থেকে রক্ত বা তরল কোনো পদার্থ বের হওয়া।
স্তনবৃত্তের আশপাশে ফুসকুড়ি হওয়া।
স্তনের ভিতরে গোটা হওয়া এবং
বগলে ফুলে যাওয়া বা বগলে চাকা হলেও স্তন ক্যান্সার পরীক্ষা করতে হবে।

স্তন ক্যান্সার কি? লক্ষণ, কারণ ও করণীয়

কীভাবে নির্ণয় করা যাবে?

স্তন ক্যান্সার নির্ণয়ে একজন স্ত্রীর ক্ষেত্রে স্বামী গূরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে একজন নারী ঘরে বসেই খুব সহজ পদ্ধতিতে এটা নির্ণয় করতে পারে। গোসলের সময় স্তনে হাত রেখে নিচ থেকে উপরের দিকে চাপ দিয়ে বুঝার চেষ্টা করতে হবে ভিতরে কোনো চাকার মতো অনুভব হয় কিনা। কিংবা চাপ দিলে ব্যাথা অনুভব হয় কিনা। এছাড়াও ওপরের লক্ষণগুলোর যে কোনো একটিও দেখা যায় কিনা।

করণীয় কী?

প্রাথমিকভাবে উপরের লক্ষণগুলো কোনো একটিও দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ৭০ বছর বয়সী নারীদের অন্তত প্রতি তিনবছর অন্তর ব্রেস্ট স্ক্রিনিং বা ম্যামোগ্রাম পরীক্ষা করানো উচিত। কেননা প্রাথমিক অবস্থায় ‘গোটা’ খুব ছোট থাকায় হাতের স্পর্শে ধরা পড়ে না। ব্যাথাও অনুভব হয় কম। সেজন্য পঞ্চাশোর্ধ নারীদের উচিত প্রতি তিন বছর অন্তর ম্যামোগ্রাম পরীক্ষা তথা এক্স-রের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া।

পরামর্শ:

প্রত্যেক নারীর উচিত হবে আধুনিতকার হাওয়ায় বেশি বয়সে বিয়ে করার প্রবনতা থেকে বেরিয়ে আসা। অল্প বয়সে তথা উপযুক্ত সময়ে বিয়ে করা। বিয়ের পর দ্রুত সময়ে বাচ্চা নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করা। বাচ্চাকে নিয়মিত বুকের দুধ পান করানো। মুটিয়ে যাওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করা। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় লজ্জা না করা। নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া। সবচে বড় কথা হলো স্বাস্থ্য সচেতনতাই নারীকে স্তন ক্যান্সারসহ অন্যান্য রোগের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে।

এছাড়াও ধুমপান ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকা। অতিরিক্ত ক্যামিক্যালযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহার না করা। দীর্ঘ সময় এয়ার ফ্রেশনার, কীটনাশক ও তেজস্ক্রীয় পদার্থের সংস্পর্শে না থাকা। দীর্ঘ সময় কিংবা ভুল বক্ষবন্ধনী না পড়া। কেননা এসব কারণেও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।

Facebook Comments