ঢাকাশনিবার , ৭ আগস্ট ২০২১
  1. ইসলাম
  2. ছোট গল্প
  3. বই
  4. বিজ্ঞান-ও-প্রযুক্তি
  5. বিনোদন
  6. বিশ্বকোষ
  7. ব্যবসা
  8. ভিডিও
  9. ভ্রমণ
  10. মার্কেটিং
  11. মোটিভেশনাল স্পিচ
  12. স্বাস্থ্য বিষয়ক
আজকের সর্বশেষ সবখবর

স্মার্ট ফোন রেডিয়েশন ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি আদৌ ক্ষতিকর কিনা

প্রতিবেদক
Yeasin Ahmad
আগস্ট ৭, ২০২১ ৯:১১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

স্মার্ট ফোন রেডিয়েশন ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি আদৌ ক্ষতিকর কিনা?

আজকে আমাদের এই আর্টিকেলে আলোচনা করবো মোবাইলের রেডিয়েশন কি এবং কতটা ক্ষতিকর।

বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় আজ বিশ্বের মানুষের হাতে হাতে অত্যাধুনিক সব মোবাইল ফোন। মোবাইল ফোন বর্তমান মানব সভ্যতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাড়িয়েছে। মোবাইলের ব্যবহার দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। মোটামুটি আমরা অনেকেই জানি মোবাইল ফোন অতিরিক্ত ব্যবহারে আমাদের ক্ষতি হয়। এই মোবাইল ফোন ব্যবহার করার সময় আমাদের মাথায় একটা প্রশ্ন আসে যে মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন আসলে কতটা ক্ষতিকর বা আদৌ ক্ষতিকর কিনা?

আমাদের অনেকে মনে করে স্মার্টফোনের রেডিয়েশন মানুষের ব্রেইন ক্যান্সার এবং ব্রেইন টিউমারের সৃষ্টি করে। প্রত্যেকটি স্মার্টফোনের রেডিয়েশন লিমিট করে দেওয়া হয় যাকে SAR(specific absorption rate) value বলে। এই লিমিট প্রত্যেকটি স্মার্টফোনে করে দেওয়া হয়।

-মোবাইলের রেডিয়েশন/ Radiation কি?

Radiation is energy that comes from a source and travels through space and may be able to penetrate various materials. Light, radio, and microwaves are types of radiation that are called nonionizing.

রেডিয়েশন হলোএক প্রকার শক্তি স্থানান্তর বা নির্গমন প্রক্রিয়া যা তরঙ্গ বা কণা আকারে শূন্য স্থান বা মাধ্যমের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করে।

মোবাইলের রেডিয়েশন আমাদের জন্য আদৌ ক্ষতিকর কিনা?

যেহেতু এই রেডিয়েশন লিমিট করে দেওয়া হয় তাই অনেকেই এই রেডিয়েশনকে ক্ষতিকারক মনে করে। আসলে এটা মোটেও ক্ষতিকর নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর উপর বেশ কিছু গবেষণা করেছে এবং বর্তমানে আরো কিছু গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা ঘোষণা দিয়েছিল যে স্মার্টফোনের রেডিয়েশন আমাদের শরীরের উপর কোনো প্রভাব ফেলে না। এখন আমরা এই জিনিসটা কিভাবে বুঝব যে এটি ব্রেইন ক্যান্সারের জন্য দায়ী নয়? এটি বুঝার জন্য আমাদের ইতিহাসের দিকে তাকাতে হবে।

আপনারা খেয়াল করলে দেখবেন যে, সিগারেটের ব্যবহার অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে এবং এটির ব্যবহার বাড়ার সাথে সাথে ফুসফুসে ক্যান্সার আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যাও বাড়ছে। অন্যদিকে সেই ১৯৯০ সাল থেকে মোবাইল ফোনের ব্যবহার শুরু হয়েছে এবং এটির ব্যবহার বাড়ার সাথে সাথে কিন্তু ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা বাড়ছে না। অর্থাৎ এটি স্বাভাবিক রয়েছে। এই ব্যাপারটা না হয় বুঝলাম। কিন্তু এখন প্রশ্ন হচ্ছে কেন মোবাইলের রেডিয়েশন আমাদের শরীরের কেনো ক্ষতি করে না? এটি বুঝতে হলে আগে রেডিয়েশন সম্পর্কে বুঝতে হবে।

-রেডিয়েশন কত প্রকার?

রেডিয়েশন দুই প্রকার। ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন বা (Non Ionizing) রেডিয়েশন এবং নিউক্লিয়ার রেডিয়েশন বা (Ionizing) রেডিয়েশন।

মোবাইলের রেডিয়েশন হচ্ছে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন। আমরা প্রতিনিয়ত ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন দ্বারা (exposed) হয়ে থাকি। উদারণ স্বরূপ টিবি, রেডিও, মাইক্রোওভেন ইত্যাদি। ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন এর (Wavelength) অনেক লম্বা হয় এবং এর এনার্জি অনেক কম থাকে। তাই এটি যখন কোনো এটমে হিট করে তখন এটমে সামান্য কম্পন সৃষ্টি হয় কিন্তু এর ভিতরের ইলেকট্রন বাইরে বের হয়ে আসতে পারে না। অন্যদিকে নিউক্লিয়ার রেডিয়েশন এর (Wavelength) অনেক চিকন হয় কিন্তু এর এনার্জি অনেক বেশি থাকে। তাই এটি কোনো এটমে হিট করলে এটম এর ভিতরের ইলেকট্রন কম্পনের ফলে ছিটকে বাইরে বেরিয়ে আসে এবং এটম (Ionized) হয়ে যায়।

ই রকমের রেডিয়েশন আমাদের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আমরা (X ray) তে যে রেডিয়েশন দেখি তা হলো (Ionizing) রেডিয়েশন। গামা রশ্মিও হলো (Ionizing) রেডিয়েশন। (Non Ionizing) রেডিয়েশন আমাদের শরীরের জন্য তেমন একটা ক্ষতিকর না। কারণ এটা এটম এর ইলেকট্রনকে বাইরে ছিটকে বের করতে পারে না। আবার অনেকের মনে এই প্রশ্ন থাকতে পারে যে মোবাইলের ব্যবহার তো recently শুরু হয়েছে মানে সেই ১৯৯০ সালে। এই অল্প সময়ে ব্রেইন টিউমার হয় না। এর জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন।

-মোবাইল ফোনের রেডিয়েশান থেকে যেভাবে নিরাপদ থাকতে পারি?

১.হ্যান্ডস-ফি মোবাইল ব্যবহার করতে হবে।
২.মোবাইল ফোনকে যতটা সম্ভব শরীর থেকে দূরে রাখতে হবে।
৩.এক্সটারনাল এন্টেনা ছাড়া গাড়িতে মোবাইল ব্যবহার করা উচিত নয়।
৪.ঘুমানোর সময় মোবাইল মাথা থেকে দূরে রাখতে হবে।
৫.এক টানা দীর্ঘ সময় মোবাইলে কথা বলা উচিত নয়।
৬.বিল্ডিং এর ভিতরে যথা সম্ভব ফোনে কোন কথা বলা।
৭.যত টুকু সম্ভব বাহিরে বসে ফোনে কথা বলা ভালো।
৮.মোবাইল যতটা সম্ভব শিশুদের থেকে দূরে রাখা ভালো।

-দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারে আমাদের শরীরের উপর কোন প্রভাব ফেলে?

এই বিষয় নিয়েও বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা গবেষণা করছে এইটা বোঝার জন্য যে long term মোবাইল ব্যবহারের কারণে এই ধরনের রোগ হয় কিনা। তবে এর সম্ভাবনা খুবই কম। আশাকরি এই ব্যাপারটা তোমরা বুঝতে পেরেছেন যে, কেন মোবাইলের রেডিয়েশন আমাদের শরীরের কোনো ক্ষতি করে না। তবে দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করা উওম। আসুন সকলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে সচেতন হই ও অন্যকে সচেতন করি। এতে আমারাই বিপদ থেকে রক্ষা পাবো।

Facebook Comments